প্রতি কুইন্টাল ২৭ হাজার! মুর্শিদাবাদে রসুন চাষে হঠাৎ কেন হু হু করে বাড়ছে কোটি টাকার আশাবাদ?

রাজ্য তথা দেশজুড়ে হঠাৎ করেই রান্নাবান্নার অপরিহার্য উপাদান রসুনের দাম আকাশছোঁয়া। আর বাজারে রসুনের এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিকেই নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর হাতিয়ার করে নিয়েছেন মুর্শিদাবাদের কৃষকরা। শীতের শুরুতেই মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরপাড়া ব্লক জুড়ে এখন শুধুই শীতকালীন রসুন চাষের ব্যস্ততা। সাগরপাড়ার সিপাহীচক, মহিষমারী-সহ বিস্তৃত এলাকার মাঠজুড়ে চাষিরা পুরোদমে রসুন বপনের কাজে নেমে পড়েছেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, রবি মরশুমে অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রসুন চাষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। বিশেষ করে উর্বর দোঁয়াশ মাটিতে রসুনের বাম্পার ফলন পাওয়া যায়। সাগরপাড়া এলাকায় মূলত দুটি জনপ্রিয় প্রজাতির রসুন চাষ করা হয়—’গঙ্গাজলী’ এবং ‘বাইনাবতি’। গঙ্গাজলী রসুন কিছুটা আগাম জমি থেকে ওঠে, তাই এর চাহিদা ও প্রাথমিক বাজারদর সবসময়েই তুঙ্গে থাকে।

তবে এবারের চিত্রটা একটু ভিন্ন। এক বিঘা জমিতে রসুন চাষ করতে প্রায় দেড় কুইন্টাল বীজের প্রয়োজন হয়, যার পেছনেই খরচ হয়ে যায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে আগাম গঙ্গাজলী রসুন বপনে বিঘা প্রতি মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় এক লক্ষ টাকা। অন্যদিকে বাইনাবতি প্রজাতির রসুনের ক্ষেত্রে বিঘা প্রতি খরচ প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এত বিপুল পরিমাণ আর্থিক ঝুঁকি এবং বর্তমানে তীব্র শ্রমিক সংকট থাকা সত্ত্বেও চড়া দামের আশায় চাষিরা রসুন চাষেই মন দিয়েছেন।

চাষিরা জানিয়েছেন, মরশুমের শুরুতেই কাঁচা রসুন প্রতি কুইন্টাল ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। শীত যত বাড়বে এবং বাজার জমে উঠবে, এই দাম প্রতি কুইন্টাল ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা বা তারও উপরে পৌঁছে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিপুল লাভের এই উজ্জ্বল সম্ভাবনাই সাগরপাড়ার চাষিদের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছে। যত ঠান্ডা পড়বে, ফলন তত ভালো হবে বলে আশাবাদী এলাকার কৃষকসমাজ।