বেসরকারি হাসপাতালের বিল নাকি প্রকাশ্য ডাকাতি? কেন্দ্রীয় সরকারকে চরম তুলোধোনা সুপ্রিম কোর্টের!

বেসরকারি হাসপাতালগুলির আকাশছোঁয়া বিল এবং ওষুধের চড়া দাম নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে নজিরবিহীন প্রশ্নের মুখে পড়তে হলো সুপ্রিম কোর্টের। শুধুমাত্র পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যায্য মুনাফার নামে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলি কীভাবে সাধারণ মানুষের থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করতে পারে, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত।

চিকিৎসা করাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠা এবং বিপুল খরচের প্রতিবাদে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালীন এই কড়া মন্তব্য করেন বিচারপতিরা। শুনানি চলাকালীন ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানায়, হাসপাতালগুলি ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য অন্য অনেক ইতিবাচক উপায় অবলম্বন করতে পারে, কিন্তু চিকিৎসার নামে রোগীদের ওপর এভাবে ডাকাতি চালানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মানুষের জীবন-মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য পরিষেবায় যে অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিকিকরণের প্রবণতা বাড়ছে, তা নিয়েও মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। বিচারপতিদের প্রশ্ন, যেখানে একজন রোগীর প্রাণ বাঁচানোই মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, সেখানে এই চরম পুঁজিবাদী মানসিকতা কতটা যুক্তিযুক্ত?

আদালতের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করে যে, বাজারে ওষুধের দামের ওপর প্রতিনিয়ত কড়া নজরদারি চালানো হয়। তবে কেন্দ্রের এই দাবিকে একপ্রকার নস্যাৎ করে দিয়ে ক্যানসারের একটি ইঞ্জেকশনের উদাহরণ টানে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত প্রশ্ন তোলে, ক্যানসারের একটি নির্দিষ্ট ইনজেকশনের দাম বাজারে কোথাও ১১ হাজার টাকা আবার কোথাও ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হয় কীভাবে? এটি যদি সরকারের নজরদারি হয়, তবে তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

শীর্ষ আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, একবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কোনো রোগী বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে পরিষেবার দর কষাকষি করার মতো পরিস্থিতি থাকে না। একই সঙ্গে ওষুধের সরবরাহ ও বিপুল আয়ের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালত জিজ্ঞেস করে, যে ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP) ১০০ টাকা লেখা থাকে, তা ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি কেন খুচরো বিক্রেতাদের কাছে মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করে? এছাড়া ওষুধের দামে তারতম্য ও অনিয়মের অভিযোগে প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির থেকে বকেয়া থাকা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কেন এখনো আদায় করা হয়নি, তা নিয়েও কেন্দ্রের কাছে জবাব চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।