পুজো মণ্ডপেই কি ফুরিয়ে গেল এলাকার সব বাঁশ? ১৫০ টাকা দিয়ে কিনেও বিপাকে হস্তশিল্পীরা

গ্রামাঞ্চলের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, মাটি বওয়া থেকে শুরু করে মাছ ধরা কিংবা গৃহস্থালির নানা কাজে ঝোড়া ও চুপড়ির ব্যবহার অত্যন্ত প্রাচীন ও অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই প্রয়োজনীয় হস্তশিল্পের মূল কাঁচামাল অর্থাৎ কাঁচা বাঁশ পাওয়া নিয়েই চরম সংকটের মুখে পড়েছেন দক্ষ কারিগররা। স্থানীয় বাজারে বাঁশের মারাত্মক আকাল দেখা দেওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে চড়া দামে বাঁশ কিনে আনতে হচ্ছে তাঁদের। বর্তমানে একটি মাত্র বাঁশ কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৫০ টাকা পর্যন্ত। ফলস্বরূপ, লাভ তো দূরঅস্ত, চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে পেশা টিকিয়ে রাখা নিয়েই বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

এই ভয়াবহ সংকটের মূল কারণ হিসেবে কারিগররা জানাচ্ছেন, দুর্গোৎসবের মরশুমে পুজো মণ্ডপ তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ বাঁশ দেদার বিক্রি হয়ে গিয়েছে। ব্যবসায়ীরা চড়া লাভের আশায় বাইরের বিভিন্ন জায়গায় বাঁশ পাচার করে দিচ্ছেন। এছাড়া এলাকায় নতুন করে কেউ আর বাঁশগাছ রোপণ করছেন না এবং যাঁদের জমিতে গাছ রয়েছে, তাঁরাও তা বিক্রি করতে নারাজ। মথুরাপুরের বটীশ্বরের প্রবীণ কারিগর দিলীপ হালদার ও রাজকুমার হালদারের আক্ষেপ, একটি মাত্র বাঁশ দিয়ে যেখানে বড় জোর চারটি চুপড়ি বা ঝোড়া তৈরি করা সম্ভব, সেখানে কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন প্রক্রিয়া প্রায় লাটে ওঠার উপক্রম হয়েছে। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কাঁচামালের জোগানের অভাবে আশানরূপ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে এবং আগামী দিনে পেশার অস্তিত্ব রক্ষা করতে ইতিমধ্যে নতুন কৌশল নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন কারিগররা। রাজকুমার হালদার জানিয়েছেন, আসন্ন এই সংকট মোকাবিলায় তাঁরা আগামী বছর পুজোর বহু আগে থেকেই পাইকারি দরে বাঁশ কিনে তা জলাশয়ে ভিজিয়ে মজুত করে রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। কাঁচামালের অভাব দূর করে হস্তশিল্পের এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে কারিগরদের এই দূরদর্শী উদ্যোগ কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।