তামিলনাড়ুতে হাড়হিম জেলব্রেক! ১৫ মিনিটে কীভাবে উধাও ১৭ দাগি আসামি? জানুন আসল সত্য

তামিলনাড়ুর থেনি জেলার থেক্কামপট্টি সাব-জেলে সোমবার গভীর রাতে ঘটল এক চরম নাটকীয় ও হাড়হিম করা জেলব্রেকের ঘটনা। এক বন্দির হঠাৎ অসুস্থতার ভান করে কারারক্ষীদের ওপর চড়াও হয়ে মূল ফটক দিয়ে চম্পট দিল ১৭ জন দাগি আসামি। এই নজিরবিহীন ঘটনায় পুরো তামিলনাড়ু জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পুলিশি তৎপরতায় ইতিমধ্যেই পলাতকদের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ ও কারাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ জেলের একটি সেলে এক বন্দি হঠাৎ মৃগীরোগের খিঁচুনির নাটক শুরু করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কারারক্ষীরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে সেলের দরজা খুলতেই ওত পেতে থাকা অন্য বন্দিরা রক্ষীদের ওপর মারাত্মক হামলা চালায়। রক্ষীদের মারধর করে মুহূর্তে জেলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে তারা চম্পট দেয়। পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে লিঙ্গম, রাজা, কারুপ্পাসামি, সিলামবারাসান, তিরুপতি, মীনাক্ষী সুন্দরম এবং সাবারির মতো কুখ্যাত অপরাধীরা রয়েছে, যাদের অনেকেই একাধিক গুরুতর মামলায় বিচারাধীন।

ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশ সুপার প্রবীণ গৌতম এবং দক্ষিণ জোনের আইজি বিজয়েন্দ্র বিদারি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আইজি বিজয়েন্দ্র বিদারি জানান, পলাতক আসামিদের ধরতে ১৭টি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে। থেনির জঙ্গল, সীমান্ত ও প্রধান সড়কগুলিতে প্রশিক্ষিত কুকুর এবং নাকা চেকিংয়ের মাধ্যমে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই পেরুনগুডির বাসিন্দা প্রবীণকে পার্শ্ববর্তী জঙ্গল থেকে এবং থেভারাম এলাকা থেকে সিলামবারাসানকে ধরা হয়েছে। এছাড়া রাজকুমার ও রাজা সিকান্দারকেও পুলিশ জালে তুলেছে। ৫০০-র বেশি বন্দি থাকা এই হাই-সিকিউরিটি জেলে এত বড় গাফিলতি তামিলনাড়ু পুলিশ ও জেল প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।