‘নীরব দর্শক হয়ে থাকা যাবে না!’ ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিস্ফোরক জয়শঙ্কর

ইউক্রেন কিংবা পশ্চিম এশিয়া—যুদ্ধের বিধ্বংসী আগুনের তাপ আর কেবল সংঘাতপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সংঘাতের আঁচ ছড়াতে ছড়াতে আজ আছড়ে পড়েছে বিশ্বের দূরদূরান্তের দেশগুলোতেও। যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও একের পর এক রাষ্ট্রকে চরম মাশুল গুণতে হচ্ছে তেলের চড়া দাম, খাদ্যপণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং মারাত্মক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়ে। এই উত্তাল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার পক্ষে অত্যন্ত জোরালো সওয়াল করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

শনিবার, রাষ্ট্রপুঞ্জ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘চিন্ময় অমৃত মহোৎসব’-এর আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের নীতি স্পষ্ট করে দেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “বিশ্বের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আমরা কোনোভাবেই নিছক অসহায় ও নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারি না।” জয়শঙ্করের বক্তব্য, যুদ্ধের ময়দানে রক্তপাত ঘটিয়ে কখনোই স্থায়ী শান্তি বজায় রাখা সম্ভব নয়। কেবল কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পথেই এই সমস্ত জটিল আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব।

বিশ্ব অর্থনীতিতে সংঘাতের বিষাক্ত প্রভাব

বিদেশমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে তুলে ধরেন কীভাবে এই যুদ্ধগুলো বিশ্ব অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্ত সাধারণ মানুষ কিংবা অনুন্নত ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির কোনো ভূমিকাই ছিল না, চরম সংকটের কোপ এসে পড়ছে তাদের ওপরই। জ্বালানি থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী—সবকিছুর জোগান ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে এক ধরনের অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কার ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে কড়া বার্তা

শুধু যুদ্ধবিরতিই নয়, সম্মেলনের মঞ্চ থেকে বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের দাবিও পুনরুচ্চারণ করেন এস জয়শঙ্কর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শক্তি ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটেছে, ফলে রাষ্ট্রপুঞ্জের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থাসমূহে সমস্ত দেশের সঠিক প্রতিনিধিত্ব থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পাশাপাশি, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে কড়া বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অশুভ প্রবণতাকে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বৈশ্বিক শান্তি ও স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনতে সমস্ত দেশকে ভেদাভেদ ভুলে এক ছাতার তলায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী।