জলসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে খুন? গাইঘাটায় ছাত্রীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারে তুঙ্গে চাঞ্চল্য!

জলসার অনুষ্ঠান চলাকালীন ফোন পেয়ে বেরিয়ে যাওয়া এক একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায়। ১৭ বছরের ওই কিশোরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শুরু হয়েছে চরম উত্তেজনা। মৃত্যুর পেছনে ধর্ষণ ও খুনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলেও, পুলিশ জানিয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই আসল সত্য সামনে আসবে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক আত্মীয়কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

ঠিক কী ঘটেছিল রাতে?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার রাতে গাইঘাটা এলাকায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা জলসার আয়োজন করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্য ও পরিচিতদের সঙ্গে ওই অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিল ১৭ বছরের ওই কিশোরী। পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তার মোবাইলে একটি রহস্যময় ফোন আসে। সেই ফোন কল রিসিভ করার পরই অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যায় সে। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা সারারাত ধরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও কিশোরীর সন্ধান মেলেনি। অবশেষে রবিবার সকালে এক প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন দিক থেকে তার রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। দেহ উদ্ধারের খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উঠছে ধর্ষণের অভিযোগ, খতিয়ে দেখছে পুলিশ

কিশোরীর পরিবারের সন্দেহ, রাতের অন্ধকারে তাকে সুকৌশলে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করার পর নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। যদিও প্রাথমিক অবস্থায় এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও যৌন নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ওই কিশোরীরই এক দূরসম্পর্কিত বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে আটক করা হয়েছে। তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আরও কেউ বা কারা জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, এলাকাটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি বা যুক্ত ব্যক্তিরা সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সেই দিকটিও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। গাইঘাটা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং আটক ব্যক্তিকে জেরা করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।