টানা ধাক্কায় ফাঁকা হচ্ছে রিজার্ভ ফান্ড! এক সপ্তাহেই উবে গেল হাজার হাজার কোটি ডলার, চিন্তায় আরবিআই

রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর থেকেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাঁড়ারে যেন টানা পতন লেগে রয়েছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) সাম্প্রতিক প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ফের এক বড় অঙ্কের হ্রাসের চিত্র সামনে এসেছে। আরবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৮.৫৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ৭২৬.০২৭ বিলিয়ন ডলারে। তার ঠিক আগের সপ্তাহেও এই ভাণ্ডার থেকে রেকর্ড ১২.৯৫২ বিলিয়ন ডলার কমেছিল, যা ভারতীয় অর্থনীতির জন্য বেশ উদ্বেগজনক।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে ৭৮৫.৭০৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। ভারতীয় প্রবাসীদের বিশেষ আমানত সোয়াপ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় ব্যাংকগুলি প্রায় ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে সেই ঐতিহাসিক চূড়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই রিজার্ভে ধারাবাহিক পতন দেখা যাচ্ছে।

এক নজরে মূল ক্ষতির খতিয়ান:

  • বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদ (FCA): রিজার্ভের সবচেয়ে বড় উপাদান অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদের পরিমাণ ৭.১৪২ বিলিয়ন ডলার কমে বর্তমানে ৫৯৭.৬০৫ বিলিয়ন ডলারে এসে ঠেকেছে। ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড এবং জাপানি ইয়েনের মূল্যের ওঠানামাই ডলার হিসেবে এর মান কমার অন্যতম প্রধান কারণ।

  • স্বর্ণের রিজার্ভ (Gold Reserve): কেবল কাগজের মুদ্রা নয়, রিজার্ভে থাকা সোনার মূল্যেও টান পড়েছে। আলোচ্য সপ্তাহে ভারতের স্বর্ণ রিজার্ভের মূল্য ১.৩১৯ বিলিয়ন ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ১০৫.০৯৪ বিলিয়ন ডলারে।

  • আইএমএফ-এর সম্পদ (SDR & IMF Reserve): আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে রক্ষিত স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) ১০৯ মিলিয়ন ডলার কমে ১৮.৫৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। পাশাপাশি, আইএমএফ-এর কাছে ভারতের নিজস্ব রিজার্ভের পরিমাণও ১০ মিলিয়ন ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৭৮ বিলিয়ন ডলারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন মুদ্রার দরের চরম অস্থিরতা এবং সোনার দামের আন্তর্জাতিক পরিবর্তনের কারণেই রিজার্ভের অঙ্কে এই টানা নিম্নমুখী প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া আগামী দিনে কী রূপরেখা গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার।