শুধু দিওয়ালি নয়, সারা বছর রাস্তায় বাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ! ঐতিহাসিক রায়ে স্তম্ভিত দেশবাসী

উৎসবের মরশুমে বাজি ফোটানো এবং উৎসব উদযাপনের আমেজ নিয়ে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিল বোম্বে হাইকোর্ট। আদালত এক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুধু দীপাবলি নয়, সারা বছর যেকোনো উৎসব বা অনুষ্ঠানেই পাবলিক প্লেস বা জনসমক্ষে— যেমন রাস্তা, ফুটপাত বা জনপথে বাজি ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

বিচারপতি গিরিশ কুলকার্নি এবং বিচারপতি নীলা গোখালের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের মারাত্মক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই রায় প্রদান করেছে। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, দিওয়ালির পর তৈরি হওয়া বিষাক্ত ধোঁয়া ও দূষণ সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।

কী কী বিধিনিষেধ থাকছে এই রায়ে?

বোম্বে হাইকোর্টের এই ঐতিহাসিক নির্দেশের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • জনসমক্ষে বাজি ফোটানোয় নিষেধাজ্ঞা: নবরাত্রি, দিওয়ালি, বড়দিন বা নিউ ইয়ার— যেকোনো উৎসবে কোনো সরকারি রাস্তা, সরণি বা ফুটপাতে বাজি ফোটানো যাবে না।

  • উৎপাদন ও বিক্রিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নয়: আদালত স্পষ্ট করেছে, এটি আতশবাজির সার্বিক উৎপাদন বা বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়। শুধুমাত্র জনসমক্ষে ও সর্বসাধারণের ব্যবহার্য রাস্তায় এর ব্যবহার রোধ করাই মূল উদ্দেশ্য।

  • ডিজে, ডলবি ও লেজার লাইটেও কড়াকড়ি: বাজির পাশাপাশি শোভাযাত্রায় চরম শব্দদূষণকারী সাউন্ড সিস্টেম, ডিজে, ডলবি স্পিকার এবং বিপজ্জনক তীব্র লেজার লাইটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণেও কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • সচেতনতা তৈরির নির্দেশ: এক সপ্তাহের মধ্যে এই সংক্রান্ত নিয়মাবলী চূড়ান্ত করতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গণবিজ্ঞপ্তি ও স্কুলে বিশেষ কর্মসূচি চালানোর জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।

জনস্বার্থ ও পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বোম্বে হাইকোর্টের নেওয়া এই সাহসী সিদ্ধান্ত এখন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।