সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর! কি বিরাট পরিবর্তন আসতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যে?

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাতকারকে জয়শঙ্কর “আন্তরিক এবং অত্যন্ত অর্থবহ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, দুই দেশ তাদের মধ্যে বিদ্যমান ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর আওতায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।
চারিদিকে বিশ্বব্যাপী আর্থিক অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হলেও, বিগত কয়েক বছরে ভারত এবং ইউএই-র মধ্যে সম্পর্ক এক অভূতপূর্ব গতি পেয়েছে। বিশেষ করে মে ২০২২-এ কার্যকর হওয়া ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (CEPA) দুই দেশের ব্যবসায়িক বিনিময়কে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। জয়শঙ্কর তিন দিনের এই সরকারি সফরে আবু ধাবিতে পৌঁছেই ‘রাইসিনা মিডল ইস্ট’ কনক্লেভের দ্বিতীয় সংস্করণে অংশ নেন। সেখানে ‘বিশ্বের আগামী দিন: ক্ষমতা, উদ্দেশ্য এবং সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে তিনি ইউএই নেতৃত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত। সে দেশে বসবাসকারী প্রায় ৪৩ লাখ প্রবাসী ভারতীয় সমগ্র ইউএই জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ এবং তাঁরা দেশের অর্থনৈতিক মূল চালিকাশক্তি। ইউএই ভারত সরকারের কাছে জ্বালানি নিরাপত্তা প্রদানকারী অন্যতম প্রধান অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি শীর্ষ বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই মেগা বৈঠক প্রবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভারতের বৈশ্বিক কূটনীতিকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।