পুত্রবধূর মামলা থাকলেও নিজের বাড়িতে ফিরতে পারবেন বৃদ্ধা শাশুড়ি! কলকাতা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে বড় স্বস্তি

গার্হস্থ্য হিংসার মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও প্রবীণ ও বৃদ্ধাশাশুড়িরা কি তাঁদের নিজেদের বাড়িতে থাকার অধিকার হারিয়ে ফেলবেন? এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নের স্পষ্ট ও যুগান্তকারী রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। হুগলির নালিকুলের এক বৃদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকাকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করার ঘটনায় বড় স্বস্তি দিয়ে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, পুত্রবধূর অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে শাশুড়ির নিজের বাড়িতে থাকার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। আদালতের এই রায়ে তীব্র আইনি চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল ঘটনাটি?

হুগলির হরিপালের নালিকুলের বাসিন্দা, এক বয়োবৃদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা তাপসী বাগ। পরিবারের অন্দরের গোলমাল ও পুত্রবধূর দায়ের করা গার্হস্থ্য হিংসার মামলার জেরে একপ্রকার জোর করেই তাঁকে নিজের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। নিজের ভিটেয় সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে ফিরে যাওয়ার আকুল আর্জি নিয়ে শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাপসী দেবী।

মামলার শুনানির পর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অনুজ সিংয়ের বেঞ্চ বৃদ্ধার পক্ষেই অত্যন্ত জোরালো ও মানবিক রায়দান করেছে।

হাইকোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ

আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, বৈবাহিক সূত্রে বাড়িতে পুত্রবধূর আইনি অধিকার থাকতে পারে, কিন্তু সেই অধিকারের অজুহাতে প্রবীণ শ্বশুর-শাশুড়ির নিজেদের পৈতৃক বা নিজস্ব বাড়িতে থাকার অধিকার খর্ব করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

বৃদ্ধার নিরাপদে ও সসম্মানে ঘরে ফেরা নিশ্চিত করতে আদালত বেশ কিছু কড়া নির্দেশ দিয়েছে:

  • পূর্ব নোটিশ: নিজের বাড়িতে ফেরার অন্তত তিন দিন আগে পুত্রবধূকে সেই বিষয়ে লিখিতভাবে জানাতে হবে তাপসীদেবীকে।

  • পুলিশি পাহারা ও নিরাপত্তা: বাড়ি ফেরার সময় বা সেখানে বসবাস করারকালে তাপসীদেবী যাতে কোনো রকম বাধা, হুমকি বা হেনস্থার মুখে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে হুগলির হরিপাল থানার পুলিশকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • কড়া হুঁশিয়ারি: আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, বৃদ্ধার শান্তিপূর্ণভাবে বাড়িতে প্রবেশ এবং বসবাসের ক্ষেত্রে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা পুত্রবধূ বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন না। আইন অমান্য করলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আইনি লড়াইয়ের এই রূঢ় বাস্তবতার মাঝে কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় দেশের হাজার হাজার প্রবীণ ও অসহায় মা-বাবাকে এক নতুন আইনি সুরক্ষা ও মানসিক বল জোগাল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।