বহরমপুরে ছাত্রাবাসে ভয়াবহ বিষক্রিয়া! খাবার খেয়ে অসুস্থ ৫০ ছাত্রী, মুখ দিয়ে ফেনা ওঠায় তুলকালাম

পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরে একটি সরকারি তফসিলি জাতিভুক্ত মেয়েদের হোস্টেলে রাতের খাবার খাওয়ার পর ভয়াবহ অসুস্থতার ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মেসের খাবার খেয়ে একসঙ্গে অর্ধশতাধিক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনার জেরে তড়িঘড়ি তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর কয়েকজন ছাত্রীর অবস্থার ফের অবনতি হওয়ায় গোটা ঘটনাটি নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

আসলে ঠিক কী ঘটেছিল?

গত শনিবার রাতে বহরমপুরের ওই সরকারি হোস্টেলে প্রায় ৬০ জন ছাত্রী রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। অভিযোগ, খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তাঁদের মধ্যে ৫০ জনেরও বেশি ছাত্রী তীব্র বমি ও শারীরিক অস্বস্তিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় তাঁদের দ্রুত মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হলে রবিবার বিকেলে তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছেড়েও দেওয়া হয়।

বাড়ি ফেরার পরেই ফের চরম অবনতি

তবে চাঞ্চল্যকর মোড় আসে যখন হোস্টেলে বা বাড়িতে ফেরার পর কয়েকজন ছাত্রীর শারীরিক অবস্থার ফের মারাত্মক অবনতি ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রীদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাঁদের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে এবং সামান্য দাঁড়ালেই তীব্র মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এই ভয়াবহ উপসর্গ দেখে ছাত্রীদের পরিবার জোরালোভাবে সন্দেহ করতে শুরু করে যে, মেসের খাবারে পরিকল্পিতভাবে কোনো বিষাক্ত পদার্থ বা মাদক মেশানো হয়েছিল।

থানায় মামলা ও রাঁধুনি গ্রেপ্তার

এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও ছাত্রীরা হোস্টেল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার অভিযোগ তুলে সোজা থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসে বহরমপুর থানা। পুলিশ দ্রুত একটি মামলা রুজু করে এই ঘটনায় অভিযুক্ত হোস্টেলের রাঁধুনি বানি হাজরাকে গ্রেপ্তার করেছে।

ঘটনার গভীরতা বিবেচনা করে ইতিমধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের (Food Safety Department) একটি বিশেষ দল হোস্টেলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দলও এই তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কীভাবে হঠাৎ এতগুলো ছাত্রীর একসঙ্গে এমন ভয়াবহ পরিণতি হলো, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।