প্রেমের পথে বাধা স্বামী! দেবর ও প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে ছক কষে এমন কাণ্ড ঘটাল স্ত্রী, যা শুনলে শিউরে উঠবেন

স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র সম্পর্ককে কলঙ্কিত করে এক লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ। পরকীয়া সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় নিজ স্বামীকে পথের কাঁটা থেকে সরাতে দেবর ও প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র করেছিলেন এক গৃহবধূ। জাতীয় রাজধানী সংলগ্ন গাজিয়াবাদের খোদা থানা এলাকার বন্দনা বিহার কলোনিতে ঘটা এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্যভেদ করেছে স্থানীয় পুলিশ। ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল গাজিয়াবাদে?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত অংশুল একটি রপ্তানি সংস্থায় দর্জির কাজ করতেন। গত রবিবার তাঁর নিজ বাড়ির ভেতর থেকেই গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু হয় চাঞ্চল্যকর তথ্য তল্লাশি। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে রহস্যের জট খুলতে শুরু করে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিহত অংশুলের স্ত্রী নিশার সঙ্গে তাঁরই চাচাতো ভাই পাপ্পু (যিনি গঙ্গা ভগৎ নামেও পরিচিত)-র দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে একটি অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই সম্পর্কের কথা স্বামী অংশুল জানতে পেরে যাওয়ায় পরিবারে শুরু হয় তীব্র অশান্তি ও আপত্তি। স্বামীর এই বাধাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। নিশা তাঁর প্রেমিক পাপ্পুর সঙ্গে মিলে অংশুলকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাকা ছক কষে ফেলে।
নিখুঁত পরিকল্পনা ও খুনের পরিণতি
এসিপি ইন্দিরাপুরম সূর্যবলী মৌর্যের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিশার প্ররোচনাতেই পাপ্পু অংশুলকে খুন করার পরিকল্পনা নেয়। ঠিক হয়েছিল, ছুটির দিনে যখন অংশুল বাড়িতে একা থাকবে, সেই সুযোগেই ঘরে ঢুকে তাকে গুলি করা হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অভিযুক্ত পাপ্পু তার নিজের গ্রাম থেকে একটি ৩১৫-বোরের পিস্তল কিনে আনে।
ঘটনার দিন, পরিকল্পনা মাফিক স্ত্রী নিশা কোম্পানিতে কাজে চলে যাওয়ার পর ফাঁকা বাড়িতে চুপিচুপি প্রবেশ করে পাপ্পু। এরপর সুযোগ বুঝে অংশুলকে গুলি করে খুন করে সে পালিয়ে যায়। তবে পুলিশের গোপন সূত্র ও দ্রুত তদন্তের জেরে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই দুই অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়েছে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।