পুজোর আনন্দেই ডেঙ্গির চোখরাঙানি! নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত কোন কোন জেলায় হাই অ্যালার্ট?

উৎসবের আবহে ডেঙ্গির সংক্রমণ মাত্রাতিরিক্ত হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় রাজ্যের একাধিক জেলায় আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চরম সতর্কতা জারি করল স্বাস্থ্য দফতর।

বর্ষার বিদায়লগ্নে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং জমা জলের কারণে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি দ্রুত বাড়ছে। পুজোয় মণ্ডপে মণ্ডপে লাখ লাখ মানুষের ভিড় এবং প্রতিমা দর্শনের দীর্ঘ লাইনে মশার কামড়ের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতি বিচার করেই স্বাস্থ্য ভবনের তরফে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরকে চূড়ান্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বিশেষ করে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং নদিয়া জেলার মতো ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগের। এছাড়া উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও মালদহ জেলাতেও সংক্রমণের গ্রাফের ওপর কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত বেড, প্লেটলেট ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি পুজো মণ্ডপ সংলগ্ন চত্বরে নিয়মিত ব্লিচিং ও লার্ভানাশক স্প্রে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একনজরে সতর্কবার্তা ও জরুরি নির্দেশিকা:

  • ঝুঁকিপূর্ণ জেলা: কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং নদিয়া জেলায় নজরদারি দ্বিগুণ করার নির্দেশ।

  • মণ্ডপ চত্বরে সতর্কতা: বড় পুজোর মণ্ডপের আশপাশে জল জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত ফগিং ও স্প্রে করার দায়িত্ব পুজো উদ্যোক্তাদের।

  • নাগরিকদের জন্য পরামর্শ: ভিড়ে বেরোনোর সময় ফুল হাতা পোশাক পরা, মশা তাড়ানোর মলম ব্যবহার করা এবং জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো।

উৎসবের উন্মাদনায় গা ভাসিয়ে স্বাস্থ্যবিধি ভুলে গেলে বিপদ বাড়তে পারে, তাই আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বাড়তি সচেতন হওয়ার আবেদন জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।