‘ভোটের নামে তামাশা চলছে’, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে পুনর্নির্বাচনের দাবি কংগ্রেসের

উপনির্বাচন চলাকালীনই রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, বুথ দখল ও বিরোধী পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলল কংগ্রেস। দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে নির্বাচন বাতিল এবং নতুন করে ভোটগ্রহণের (Re-poll) জোরালো দাবি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
‘ভোটের নামে তামাশা চলছে’, বিস্ফোরক শুভঙ্কর সরকার
মঙ্গলবার কলকাতার প্রদেশ কংগ্রেস সদর দফতর ‘বিধান ভবন’-এ আয়োজিত এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশন এবং শাসক-বিরোধী আঁতাতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন শুভঙ্কর সরকার। তিনি অভিযোগ করেন, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—উভয় কেন্দ্রেই সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং কংগ্রেস কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
শুভঙ্কর সরকার সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নন্দীগ্রামে ভোট করানোর জন্য বাইক বাহিনী ও গাড়িতে করে চণ্ডীপুর, কাঁথি এবং হলদিয়া থেকে বাইরে থেকে লোক ঢোকানো হয়েছে। পুরো নন্দীগ্রাম এলাকা দখল করে নিয়েছে বিজেপি। এমনকি পুলিশ সাধারণ ভোটার ও কংগ্রেস নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “২০২১ বা ২০২৬—কোনও নির্বাচনেই যে বিজেপি জনগণের প্রকৃত মান্ডেট নিয়ে জেতেনি, তা আজকের এই ভয় ও হিংসার পরিবেশই প্রমাণ করে দিচ্ছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর সাহস তাদের নেই।”
রেজিনগরে থানার সামনে কংগ্রেস প্রার্থীর অবস্থান বিক্ষোভ
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা এলাকাতেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে রেজিনগর থানার সামনেই অবস্থান বিক্ষোভে বসেন কংগ্রেস প্রার্থী। শুভঙ্কর সরকার এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “সোমবার রাত থেকেই রেজিনগর থানার আইসি-র নেতৃত্বে বুথ দখলের ছক কষা হচ্ছিল। আমরা নির্বাচন কমিশনকে আগেই জানিয়েছিলাম। আজ প্রায় সব বুথ থেকেই কংগ্রেসের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। বুথের ভিতরে বিজেপি ছাড়া আর কারও অস্তিত্ব রাখা হয়নি।”
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি মন্তব্য করেন, “জ্ঞানেশ কুমারদের মতো কর্তারা পদে বসে থাকলে দেশে কখনও স্বচ্ছ নির্বাচন সম্ভব নয়। SIR-এর নামে বহু বৈধ ভোটারের নাম আগেই বাদ দেওয়া হয়েছে।”
কমিশনের ভূমিকায় চরম ক্ষোভ ও অধীর চৌধুরীর তোপ
নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুভঙ্কর বাবু জানান, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ২৪টি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও কমিশন তার একটিরও জবাব দেয়নি। তাই দলের প্রতিনিধি দল পুনরায় নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এই ‘প্রহসনের নির্বাচন’ বাতিল ও রি-পোলের দাবি জানাচ্ছে।
অন্যদিকে, দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকে একযোগে আক্রমণ করেছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি সাফ জানান, সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে উপনির্বাচনের নামে প্রহসন চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। আগামী ৯ অক্টোবর এই দুই উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হতে চলেছে।