“সিবিআই কর্মকর্তা সেজে ৭ কোটি টাকা লোপাট!” লুধিয়ানার ব্যবসায়ীর সঙ্গে ডিজিটাল অ্যারেস্টে বড় সাফল্য ইডি-র, কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত

লুধিয়ানার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এসপি ওসওয়ালের সঙ্গে হওয়া প্রায় ৭ কোটি টাকার চাঞ্চল্যকর ডিজিটাল গ্রেপ্তার জালিয়াতি মামলায় বড়সড় সাফল্য পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গত ২৮ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের তিনটি ভিন্ন স্থানে ম্যারাথন অভিযান চালিয়ে কলকাতা থেকে সোহেল আখতার ওরফে রাজু নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি-র জলন্ধর জোনাল অফিস। ধৃতকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সাত দিনের ইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, লুধিয়ানা সাইবার ক্রিয়াকলাপ থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর-এর সূত্র ধরে এই তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তীতে আরও নয়টি অনুরূপ সাইবার জালিয়াতির মামলার যোগসূত্রও এই চক্রের সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে।

কীভাবে চলত এই প্রতারণার জাল? ইডি-র তথ্য অনুযায়ী, কুখ্যাত প্রতারকরা নিজেদের সিবিআই এবং বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত। এরপর লুধিয়ানার ব্যবসায়ী এসপি ওসওয়ালকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা এই বিশাল অঙ্কের টাকা প্রথমে ‘রিগ্লো ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং ‘ফ্রোজেনম্যান ওয়্যারহাউজিং অ্যান্ড লজিস্টিকস’-এর মতো একাধিক বেনামি বা মিউল অ্যাকাউন্টে (Mule Account) পাঠানো হতো।

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, নেপালে বসে থাকা প্রতারকদের সহযোগীরা ওটিপি এবং এসএমএস নিয়ন্ত্রণ করত। মিউল অ্যাকাউন্টে আসা সেই অবৈধ তহবিল পরবর্তীতে দ্রুত ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরিত করে ফেলা হতো, যাতে সহজে টাকা ট্র্যাক করা না যায়। এই জটিল ও সুচারু জালিয়াতি নেটওয়ার্কের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে এখন তৎপর হয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। ইতিমধ্যে এই মামলায় ১.৭৬ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।