ধর্মভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ নিয়ে তুমুল বিতর্ক! কেন্দ্রের উচ্চপর্যায়ের জনমিতিক কমিটি বাতিলের দাবিতে গর্জে উঠল সিপিএম

দেশের জনমিতিক পরিবর্তনের প্রকৃতি ও প্রভাব পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্র সরকারের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি ‘হাই লেভেল কমিটি অন ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জেস’ (HLCDC) বা ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জেস কমিটিকে অবিলম্বে বাতিল করার জোরালো দাবি তুলল সিপিএমের পলিটব্যুরো। এই কমিটির তৈরি করা প্রশ্নমালা এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে ধর্মভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়েই তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বামেরা।

কেন এই কমিটি নিয়ে আপত্তি তুলছে সিপিএম?

গত ২৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের সভাপতিত্বে এই এইচএলসিডিসি (HLCDC) গঠিত হয়। অবৈধ অভিবাসন এবং অন্যান্য কারণে দেশের জনমিতিক পরিবর্তনের কারণ ও প্রভাব পর্যালোচনা করে নীতিগত সুপারিশ করাই এই কমিটির মূল দায়িত্ব বলে জানানো হয়েছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক প্রশ্নমালা ও রাজ্যগুলির কাছে চাওয়া তথ্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সিপিএমের অভিযোগ, প্রশ্নমালায় কেবল ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যার তথ্যই নয়, বরং স্কুলে ভর্তির হার, তফশিলি উপজাতিদের ধর্মান্তরণ, জমির মালিকানার পরিবর্তন, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং আধার কার্ড প্রদানের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকী ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের ধর্ম সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। দলের স্পষ্ট দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে একটি পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এবং এটি মূলত শাসকদলের সংখ্যালঘু-বিরোধী এজেন্ডার সঙ্গেই যুক্ত।

জনগণনা বনাম ডেমোগ্রাফিক কমিটি

সিপিএম আরও জানিয়েছে যে, এই কমিটির কাজকে চলমান এসআইআর (SIR) এবং প্রস্তাবিত সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া থেকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এই সমস্ত পদক্ষেপ একসঙ্গে দেশের নাগরিকত্ব, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং সামাজিক সম্প্রীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাম নেতৃত্ব। পাশাপাশি, দেশজুড়ে যখন মূল জনগণনার কাজ চলছে, তখন আলাদা করে এই ধরনের জনমিতিক তথ্য সংগ্রহের যৌক্তিকতা কতখানি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দল। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে এইচএলসিডিসির বর্তমান তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া বন্ধ করে পুরো কমিটিটিকেই ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সিপিএম।