বিরোধীদের প্রচারের হাওয়া ঘোরাতে মাস্টারস্ট্রোক বিজেপির! মাঠে নামার নির্দেশ পেয়েই কি শুরু হচ্ছে বড় রাজনৈতিক লড়াই?

রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গ। এই বিষয়ে বিরোধীদের লাগাতার প্রচার ও প্রতিবাদের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি মাঠে নেমে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সম্প্রতি দলের নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণার পাশাপাশি বিভিন্ন মোর্চার সভাপতিদের নামও চূড়ান্ত করা হয়েছে। আর দায়িত্ব নেওয়ার পরই নতুন মোর্চা সভাপতিদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সাধারণ মানুষের কাছে এসআইআর সংক্রান্ত দলের প্রকৃত বক্তব্য তুলে ধরতে হবে এবং জোরকদমে প্রচার চালাতে হবে।
কী ধরনের কর্মসূচি নিচ্ছে বিজেপি?
দলীয় সূত্রে খবর, প্রতিটি মোর্চা সভাপতিকে নিজেদের মতো করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলি গঠন করে রাজ্য নেতৃত্বকে সেই রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটি গঠিত হলেই মোর্চাগুলির নেতৃত্বে পথে নেমে আন্দোলন ও প্রচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হবে। মূলত বিরোধীদের তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করা এবং এসআইআর নিয়ে বিজেপির ইতিবাচক অবস্থান জনগণের দরবারে পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
শুভেন্দু অধিকারীর আক্রমণ ও বিরোধীদের ভূমিকা
দিল্লিতে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) ব্লকের বৈঠকে সাম্প্রতিক এসআইআর এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এরপরেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় তিনি কেরলের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেস ও তার জোটসঙ্গীদের দ্বিচারিতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। শুভেন্দুর প্রশ্ন, কেরলে যদি এসআইআর প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানানো হয়, তবে অন্যান্য রাজ্যে কেন এই একই প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে? কংগ্রেসের এই অবস্থানগত স্ববিরোধিতাকে সামনে এনে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে এই প্রচার যুদ্ধের জেরে আগামী দিনে রাজনৈতিক তরজা যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।