দামি পার্লারের খরচ ছাড়াই গ্লোয়িং স্কিন! পুজোর সাজে নজর কাড়তে টমেটোর রসের এই জাদুকরী উপায়গুলি জেনে নিন

দুর্গাপুজো আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এই কটা দিনে নিজেকে সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে কমবেশি সকলেই নানা রকম প্রসাধনী ও পার্লারের ওপর ভরসা রাখেন। কিন্তু কেমিক্যালে ভরপুর প্রোডাক্ট ব্যবহারের ফলে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই পুজোর আগে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের জেদি দাগ, রোদে পোড়া ভাব (ট্যান) এবং মলিনতা দূর করতে দারুণ কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে রান্নাঘরের সাধারণ একটি উপাদান—টমেটো।

ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, লাইকোপিন এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এগুলি প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে উজ্জ্বল ও সতেজ করে তুলতে জাদুর মতো কাজ করে। পুজোয় পারফেক্ট গ্লো পেতে কীভাবে ব্যবহার করবেন এই প্রাকৃতিক উপাদানটি? রইল তার সহজ কিছু উপায়:

১. সরাসরি টমেটোর রস: একটি তুলোর বলের সাহায্যে তাজা টমেটো থেকে বের করা রস সরাসরি মুখে লাগিয়ে নিন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি মুখের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ধীরে ধীরে কালচে দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

২. টমেটো ও মধুর ফেস প্যাক: এক চা চামচ টমেটোর রসের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। এই প্যাকটি শুষ্ক ত্বককে নরম, তুলতুলে ও আর্দ্র রাখতে দারুণ উপযোগী।

৩. টমেটো ও টক দইয়ের প্যাক: সমপরিমাণ টমেটোর রস ও টক দই একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। রোদে পোড়া ভাব বা ট্যান নিমেষেই দূর করতে এবং ত্বককে প্রাণবন্ত করতে এই প্যাকের জুড়ি মেলা ভার।

৪. টমেটো ও বেসনের প্যাক: এক চা চামচ বেসনের সঙ্গে এক চা চামচ টমেটোর রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে শুকিয়ে যাওয়ার পর হালকা হাতে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের মৃত কোষ বা ডেড সেল দূর করে এবং ইনস্ট্যান্ট উজ্জ্বলতা আনে।

৫. টমেটোর আইস কিউব: আইস ট্রে-তে টমেটোর রস জমিয়ে কিউব বানিয়ে নিন। প্রতিদিন সকালে একটি করে আইস কিউব মুখে আলতো করে ঘষলে ত্বকের খোলা রোমকূপ বা পোরস সংকুচিত হয় এবং ত্বকে চমৎকার গোলাপি আভা আসে।

সতর্কতা: টমেটোর রস ত্বকে ব্যবহারের পর সবসময় মুখ ধুয়ে ভালো কোনো ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এছাড়া দিনের বেলায় বাইরে বেরনোর আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি, কারণ টমেটোর ব্যবহারের পর ত্বক কিছুটা সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। পুজোয় মেকআপের আসল জেল্লা পেতে আজ থেকেই শুরু করে দিন এই ঘরোয়া পরিচর্যা।