দলীয় তহবিল থেকে টাকা তোলার আবেদন খারিজ! সুপ্রিম কোর্টে মুখ পুড়ল মমতা শিবিরের

সামনে নির্বাচন, আর ঠিক তার আগেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বড়সড় আইনি ধাক্কার মুখে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থী তৃণমূল শিবির। নির্বাচনের খরচ মেলাতে ইন্ডিয়া ব্যাঙ্কের চারটি অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল দলটি। কিন্তু সমস্ত পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে কলকাতা হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশের ওপর শীর্ষ আদালত কোনো রকম হস্তক্ষেপ না করায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।

সুপ্রিম কোর্টে কী যুক্তি দেওয়া হয়েছিল?

এ দিন শুনানিতে দলের পক্ষে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি সওয়াল করেন যে, এর আগে গত ১১ অগাস্টের রায়ে অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের মাধ্যমে দল পরিচালনার ক্ষেত্রে দৈনন্দিন খরচ বহনের কথা বলা হয়েছিল। বর্তমান অডিটেড অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রায় ২১২ কোটি টাকা রয়েছে, যার মাধ্যমেই দলের মাসিক খরচ মেটানো হয়। যেহেতু সামনেই নির্বাচন রয়েছে, তাই ওই চারটি অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহার করার বিশেষ অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, রাজ্য পুলিশের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে চলা আইনি টানাপোড়েনের দিকটি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। পাশাপাশি, ঋতব্রত পন্থীদের তরফে জানানো হয় যে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে দলের অ্যাকাউন্ট আসলে কারা ব্যবহার করতে পারবেন, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট আইনগত অনিশ্চয়তা রয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রইল

সব পক্ষের বক্তব্য খুঁটিয়ে শোনার পর বিচারপতি এম এম সুন্দরেশের বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দেয়। এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে জানানো হয়েছিল যে, অবিভক্ত তৃণমূলের প্রতীক ও নাম হাতছাড়া হলেও নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অধিকার বজায় থাকবে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিলেন যে, নির্বাচন কমিশন এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তাই পূর্বের নির্দেশ বহাল রেখেই আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দলীয় তহবিল ব্যবহারের আইনি লড়াইয়ে বড় কোনো পরিবর্তন আনল না সুপ্রিম কোর্ট।