আদালতে রায় শুনতেই হাউহাউ করে কান্না খুনি মুসকান ও সাহিলের! মেরঠের ‘ব্লু ড্রাম কেস’-এ বড় মোড়

দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বহুল আলোচিত মেরঠের ‘ব্লু ড্রাম কেস’ বা সৌরভ রাজপুত হত্যা মামলায় অবশেষে চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করল জেলা আদালত। বিচারক অরবিন্দ কুমার মিশ্র এই হাই-প্রোফাইল মামলার রায় ঘোষণা করার পরই দুই অভিযুক্ত মুসকান ও তাঁর প্রেমিক সাহিলের আচরণ নিয়ে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবর পেতেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন দুই অভিযুক্ত। এমনকি অপরাধের মাত্রা টের পেয়ে রাতের বেলা জেলের খাবারও মুখে তোলেননি তাঁরা।
কী ঘটেছিল সেই নৃশংস রাতে?
তদন্তে উঠে এসেছিল এক বীভৎস চিত্র। স্ত্রীর পরকীয়ার বলি হতে হয়েছিল স্বামী সৌরভ রাজপুতকে। পরিকল্পনা করে সৌরভকে খুন করার পর তাঁর দেহ টুকরো টুকরো করে একটি নীল ড্রামের মধ্যে ভরা হয় এবং দুর্গন্ধ এড়াতে ও প্রমাণ লোপাট করতে তা সিমেন্ট দিয়ে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। ১৫ দিন পর পুলিশের জালে ধরা পড়ে অভিযুক্তরা। দীর্ঘ তদন্ত ও ১ হাজার পাতার চার্জশিট পেশের পর এই মামলায় শুরু হয় বিচারপর্ব। চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়া এই বিচারে ১২৬টি শুনানিতে ২২ জনেরও বেশি সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার দিন আদালতের অন্দরের ছবি
বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতের শুনানিতে অংশ নেন মুসকান ও সাহিল। ওই সময় মুসকানের কোলে তাঁর ছোট্ট মেয়েটিও উপস্থিত ছিল। আদালত যখন দু’জনকেই হত্যার ও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে, ঠিক তখনই ভেঙে পড়েন তারা। ভিডিও কনফারেন্স রুম থেকে কাঁদতে কাঁদতে বাইরে বেরিয়ে আসেন দু’জনেই। সিনিয়র জেল সুপারিনটেনডেন্ট ড. বীরেশ রাজ শর্মা জানিয়েছেন, রায় শোনার পর থেকেই দু’জনে চরম বিচলিত ছিলেন। এমনকি আদালতের নির্দেশের পর একে অপরের দিকে তাকানো তো দূরের কথা, পরস্পরের থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রেখে নিজেদের ব্যারাকের দিকে চলে যান। অপরাধবোধ বা শাস্তির ভয়ে রাতে জেলের রাতের খাবারও স্পর্শ করেননি মুসকান ও সাহিল।
আগামী ১৪ অক্টোবর এই মামলার সাজা ঘোষণা করা হবে। সাজা নিয়ে সওয়াল-জবাব পর্বের পরেই আদালতের চূড়ান্ত রায়ে দুই খুনির ঠিক কী শাস্তি হয়, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।