৫৫০ জনের সই করা চিঠি! যাদবপুর শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে পড়ে কি চাপে রাজ্য সরকার?

রাজ্য বিধানসভায় পাস হওয়া বিতর্কিত শিক্ষক বদলি বিলের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি রাজ্যপালের দ্বারস্থ হলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা। গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পাস হওয়া ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’-এর সংশ্লিষ্ট বদলির বিধান অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এই বিলের তীব্র আপত্তি জানিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০১ জন অধ্যাপক স্বাক্ষর করে রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে উচ্চশিক্ষার পরিকাঠামো ভেঙে পড়ার পাশাপাশি গবেষণার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জুটাসূত্রে জানা গেছে, কলকাতা, প্রেসিডেন্সি, রবীন্দ্রভারতী ও যাদবপুরসহ মোট ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একাধিক দফায় আচার্যের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জুটা সম্পাদক রাজেশ্বর সিনহা জানিয়েছেন যে, আইনের জটিলতা, গবেষণার ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হওয়া এবং প্রশাসনিক সমস্যাগুলোর বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষকদের প্রধান আশঙ্কা, নিয়োগের সময় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বদলির কোনো শর্ত না থাকায় এই নিয়ম চালু হলে কর্মস্থলের নিশ্চিতকরণ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হবে। এর জেরে প্রতিভাবান তরুণ গবেষক ও অধ্যাপকদের পশ্চিমবঙ্গমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে।
পাশাপাশি, গবেষণাগার, যন্ত্রপাতি ও গবেষক দলের সমন্বয় ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা। পিএইচডি গবেষণার ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক ও গবেষকের নিয়মিত যোগাযোগ এবং একই একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, যা দূরবর্তী স্থানে বদলি হলে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া শিক্ষক সমাজ মনে করছে, এই বদলির বিধানটি মূলত সরকার-বিরোধী মত প্রকাশকারী অধ্যাপকদের দমনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। এমনকি উচ্চপদস্থ মহলের পক্ষ থেকে বদলির মাধ্যমে শাস্তির প্রচ্ছন্ন হুমকির কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পিছিয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে সাহায্য করার বিকল্প হিসেবে স্থায়ী বদলির পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব বা আর্থিক ও মানবসম্পদ দিয়ে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষকরা। রাজ্যপাল এই বিষয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তাঁরা আশাবাদী, তবে প্রয়োজনে তাঁরা আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটতেও পিছপা হবেন না।