এক বছর আগে ভেঙেছিল পা! মাঠে ফিরে সেই কিশোরীর গোলেই ১৫ বছর পর জাতীয় ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন বাংলা

এক বছর আগের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ফুটবল মাঠে ভেঙে গিয়েছিল পা। চিকিৎসকদের কঠোর নির্দেশ মেনে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে কাটাতে হলেও, অদম্য জেদ আর কঠোর পরিশ্রমে আবারও বুট পায়ে মাঠে নেমে ইতিহাস গড়লেন মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের তেঁতুলবাড়ির কিশোরী সুদীপ্তা মণ্ডল। অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে অসাধারণ পারফর্ম করে বাংলার শিরোপা জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরে অনুষ্ঠিত ‘ডক্টর তালিমেরেন আও জুনিয়র গার্লস ন্যাশনাল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর ফাইনালে শক্তিশালী মণিপুরকে রোমাঞ্চকর পেনাল্টি শুটআউটে ৩-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘ ১৫ বছর পর জাতীয় স্তরে মহিলা ফুটবলে বাংলার এই ঐতিহাসিক শিরোপা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল সুদীপ্তার নেওয়া পেনাল্টি থেকে করা গোলটি।
রায়গঞ্জ হাতিয়া হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির এই ছাত্রীর ফুটবলে হাতেখড়ি মাত্র সাত বছর বয়সে, বাবা সুবীর মণ্ডলের হাত ধরে। হরিশ্চন্দ্রপুর হাইস্কুলের মাঠে নিয়মিত অনুশীলন চলাকালীন গত বছর পা ভাঙলেও নিজের মানসিক জোর এক মুহূর্তের জন্যও হারাননি তিনি। পুরোপুরি সুস্থ হয়েই দ্বিগুণ উদ্যমে অনুশীলনে ফিরে নিজের যোগ্যতার জোরালো প্রমাণ দিয়েছেন এই উদীয়মান প্রতিভা। তাঁর প্রিয় ফুটবলার ব্রাজিলের নেইমার, আর এখন তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য ভারতের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।
গ্রামে ফিরে আসতেই সুদীপ্তাকে কেক কেটে ও নতুন ফুটবল উপহার দিয়ে জমকালো সংবর্ধনা জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। মেয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা সুবীর মণ্ডল ও মা দেবশ্রী দাস। হরিশ্চন্দ্রপুর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুল হক জানান, প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার এই কিশোরীর ঘুরে দাঁড়ানো ও অভাবনীয় সাফল্য গোটা অঞ্চলের উদীয়মান মেয়েদের ফুটবল মাঠে আসতে বিপুল অনুপ্রেরণা জোগাবে।