দু’ দশকের যুদ্ধের সমাপ্তি! মধ্যপ্রাচ্য থেকে আকস্মিক মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহেই এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও বড় ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার গভীর রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ’-এ এক ঐতিহাসিক পোস্টের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন যে, ইরাকের মাটি থেকে মার্কিন সমস্ত সেনা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এর মাধ্যমেই দু’ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটতে চলেছে। ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক—উভয় দেশের জন্যই একটি বিরাট ‘বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেরর আমলে বাগদাদের সঙ্গে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে সেই চুক্তিই এবার বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে, এই ঐতিহাসিক ঘোষণার পরপরই উত্তর ইরাকের কুর্দ স্বশাসিত অঞ্চলের কৌশলগত এবং শেষ মার্কিন সেনাঘাঁটি ‘এরবিল এয়ার বেস’ (Erbil Air Base) থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার তোড়জোড় ও প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু করে দিয়েছে মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে, আজকের মধ্যেই ইরাকের সমস্ত ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনার সম্পূর্ণ প্রস্থান ঘটে যাবে। ২০০৩ সালের মার্চ মাসে ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’-এর মাধ্যমে সাদ্দাম হুসেন সরকারের পতনের লক্ষ্যেই ইরাকের মাটিতে প্রথম পা রেখেছিল মার্কিন সেনা। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সামরিক অভিযানে আল-কায়েদা, আইএস এবং একাধিক ইরানপন্থী সশস্ত্র ও জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একটানা রক্তক্ষয়ী লড়াই চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে প্রায় সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন এই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। ইরানপন্থী শিয়া মুসলিম সশস্ত্র গোষ্ঠী ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশিষ্ট ইরাকি বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলির মতে, মার্কিন সেনার এই প্রস্থান কৌশলগতভাবে ইরানকে অনেকটাই শক্তিশালী ও লাভবান করবে। এর আগে গত সপ্তাহেই ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়ে ফের নতুন করে সামরিক অভিযানের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তার মধ্যেই হঠাৎ করে ইরাক থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।