রেলের নয়া চমক! সৌরশক্তিতেই এবার জ্বলবে ট্রেনের ডিপো, তৈরি হলো ‘নেট পজিটিভ’ বিল্ডিং

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানির লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। সম্প্রতি আগরতলা কোচিং ডিপোতে সাফল্যের সঙ্গে স্থাপন ও চালু করা হয়েছে ৩৪৫ কেডব্লিউপি (kWp) ক্ষমতার একটি অন-গ্রিড রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। এটি কেবল একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নয়, বরং ভারতীয় রেলের জ্বালানি দক্ষতার এক অনন্য নজির।

কী এই প্রকল্প ও এর বিশেষত্ব?
রেলওয়ে সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবনের ছাদে অব্যবহৃত জায়গাকে কাজে লাগিয়ে এই সৌর প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। তবে এর সবচেয়ে বড় চমক হলো—এটি এখন একটি ‘নেট পজিটিভ এনার্জি’ ভবনে পরিণত হয়েছে। সহজ কথায়, এই ডিপোর নিজস্ব প্রয়োজনের তুলনায় সৌর প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ অনেক বেশি। দিনের বেলা উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, যা সবুজ শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ে রেলের লক্ষ্য:
এই সৌর প্রকল্পের ফলে প্রথাগত বিদ্যুৎ উৎসের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে। ফলে একদিকে যেমন জ্বালানি খরচ কমবে, অন্যদিকে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বিদ্যুতের চাপও সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করে কার্বন নিঃসরণ কমানোর যে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, আগরতলার এই ডিপো সেই পথে এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র একটি পরিকাঠামোগত পরিবর্তন নয়, এটি ভবিষ্যতের পরিবেশ-বান্ধব পরিকাঠামো গড়ার একটি অংশ। ভারতের রেল স্টেশন ও স্থাপনাগুলোকে আরও আধুনিক, স্বনির্ভর এবং পরিবেশ-বান্ধব করে তোলার যে পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় সরকার নিয়েছে, তার একটি বড় সফল উদাহরণ আগরতলা কোচিং ডিপোর এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। আগামী দিনে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য রেল স্টেশন ও পরিকাঠামোতেও এই ধরনের ‘সবুজ সমাধান’ ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।