সংসদে নজিরবিহীন সংঘাত! স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থার ডাক বিরোধীদের, পালটা চিঠিতে আসরে বিজেপি

বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদীয় রণক্ষেত্র এখন চূড়ান্ত উত্তপ্ত। কংগ্রেসের মহিলা সাংসদদের চিঠির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পালটা চাল দিল শাসক দল। ৪ ফেব্রুয়ারির বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে এবং স্পিকার ওম বিড়লার ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁকে চিঠি দিলেন বিজেপির মহিলা সাংসদরা। একদিকে যখন বিজেপি সাংসদরা স্পিকারের হাত শক্ত করতে চাইছেন, অন্যদিকে তখন স্পিকারকে গদিচ্যুত করতে ‘অনাস্থা প্রস্তাব’ আনার তোড়জোড় শুরু করেছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট।
কেন স্পিকারের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত বিরোধীরা? সোমবার সকালে মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে রাহুল গান্ধী ও শতাব্দী রায়দের উপস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিরোধীদের অভিযোগের তালিকায় রয়েছে চারটি প্রধান পয়েন্ট:
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে সংসদে বলতে বাধা দেওয়া।
কংগ্রেসের মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অন্যায্য অভিযোগ আনা।
অনৈতিকভাবে ৮ জন বিরোধী সাংসদকে পুরো অধিবেশনের জন্য বরখাস্ত করা।
ট্রেজারি বেঞ্চের বিতর্কিত সাংসদ নিশিকান্ত দুবেকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া।
বিজেপির পালটা যুক্তি: বিজেপির মহিলা সাংসদদের দাবি, ৪ ফেব্রুয়ারি বিরোধী সাংসদরাই সংসদে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। স্পিকার সেদিন অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। বিজেপি সাংসদদের আর্জি, যারা সেদিন সংসদীয় গরিমা নষ্ট করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে যেন দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে হলে ২০ দিনের নোটিশ প্রয়োজন। সূত্রের খবর, অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে এই প্রস্তাব পেশ করতে পারে বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রীর জবাবি ভাষণ ঘিরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা এবার সরাসরি স্পিকার বনাম বিরোধী দ্বৈরথে পরিণত হলো। লোকসভার উপ-দলনেতা শতাব্দী রায়ের উপস্থিতিতে এই রণকৌশল চূড়ান্ত হওয়ায় স্পষ্ট যে, তৃণমূলও এই লড়াইয়ে কংগ্রেসের পাশেই থাকছে।