নয়াদিল্লির উদ্বেগ বাড়িয়ে হোয়াইট হাউসের মাস্টারস্ট্রোক! বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কমাল আমেরিকা

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে নয়াদিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড়সড় আর্থিক চুক্তি সেরে ফেলল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের আবহে যখন বিশ্ববাণিজ্যে অস্থিরতা কাজ করছে, ঠিক তখনই যমুনা ভবনে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক কমানোর ঐতিহাসিক সমঝোতা স্বাক্ষর করলেন মুহাম্মদ ইউনূস।

চুক্তির সারসংক্ষেপ: সোমবার স্বাক্ষরিত এই নতুন চুক্তি অনুযায়ী, আমেরিকায় রফতানি হওয়া বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক সমঝোতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। এবার ভারতের সেই সাফল্যের একদম ‘কাঁধের কাছে’ পৌঁছে গেল বাংলাদেশ। এই চুক্তির ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি বস্ত্র ও অন্যান্য পণ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টার বয়ান: চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “এই চুক্তি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়। এর ফলে আমেরিকা এবং বাংলাদেশের বাজারে উভয় পক্ষের পণ্যের অবাধ যাতায়াত আরও বাড়বে।”

ট্রাম্পের কাঁটা থেকে মুক্তি: প্রসঙ্গত, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় দফার ক্ষমতার শুরুতে বাংলাদেশের ওপর এক ধাক্কায় ৩৭ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন, যা বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্পের জন্য চরম সংকট তৈরি করেছিল। গত আগস্ট মাসে দীর্ঘ আলোচনার পর তা ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এবার তা আরও ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯-এ আনা হলো। শুধু তাই নয়, হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের বেশ কিছু বস্ত্রজাত পণ্যকে আগামী দিনে সম্পূর্ণ ‘শুল্কমুক্ত’ করা হবে। যদিও কোন কোন পণ্য এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত, তা এখনও গোপন রাখা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়লগ্নে এই কূটনৈতিক জয়কে ইউনূস প্রশাসনের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। এর ফলে ভারতের রফতানি বাণিজ্যে কিছুটা হলেও প্রতিযোগিতার চাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।