‘মুখ্যমন্ত্রীর পদ সাংবিধানিক, বিরোধী দলনেতা সমান নন!’ বিধানসভায় রক্ষী-বিতর্কে আদালতে সাফ জানাল রাজ্য

বিধানসভার অন্দরে বিধায়কদের নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশ ঘিরে আইনি লড়াই এবার তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন রক্ষী নিয়ে বিধানসভায় ঢোকেন, এই প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দায়ের করা মামলায় সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্য। অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত সওয়াল করে জানান, মুখ্যমন্ত্রী এবং অধ্যক্ষের পদটি সাংবিধানিক, তাই তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়মের ভিন্নতা আদালত অবমাননা নয়।

এজির যুক্তি ও সাংবিধানিক পদ: শুনানি চলাকালীন এজি কিশোর দত্ত আদালতে জানান, রাজ্য প্রশাসনে চারটি পদ সাংবিধানিক মর্যাদাসম্পন্ন— মুখ্যমন্ত্রী, বিধানসভার অধ্যক্ষ, বিচারপতি এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এর বাইরে কেউ (বিরোধী দলনেতা) নিজেকে এই সাংবিধানিক পদগুলোর সমান বলে দাবি করতে পারেন না।” ফলে সাধারণ বিধায়কদের জন্য রক্ষী নিয়ে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

বিচারপতি অমৃতা সিনহার পর্যবেক্ষণ: মামলাটির শুনানি ছিল বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। তিনি মন্তব্য করেন যে, আদালত এই বিষয়ের গভীরে খুব বেশি ঢুকতে চায় না। তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, স্পিকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি সব বিধায়কের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত এবং বিধানসভার অন্দরে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নিয়মের বড়সড় ব্যতিক্রম হওয়া কাম্য নয়।

মামলার প্রেক্ষাপট: শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ ছিল, অধ্যক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী কোনো বিধায়ক রক্ষী নিয়ে ঢুকতে পারবেন না বলা হলেও মুখ্যমন্ত্রী সেই নিয়ম মানছেন না। পূর্ববর্তী শুনানিতে আদালত জানিয়েছিল, সব বিধায়কের জন্য নিয়ম যাতে সমান হয় তা সচিবকে নিশ্চিত করতে হবে। শুভেন্দুর দাবি ছিল, এরপরও মুখ্যমন্ত্রী রক্ষী নিয়ে ঢুকে আদালত অবমাননা করেছেন। আগামী ২৭ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।