“১৩ কোটি নাম বাদ, ভোটার তালিকা নিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে!” নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মারাত্মক আবেদন

দেশের ভোটার তালিকা সংশোধন ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে জল গড়াল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী, ফর্ম-৬-এ পরিবর্তন এবং ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম বাদ যাওয়ার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে প্রিয়াঙ্কা মিশ্র এবং পি সি শর্মা এই মামলাটি দায়ের করেছেন।

আবেদনে মূলত নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। পিটিশনে দাবি করা হয়েছে যে, একটি নির্দিষ্ট দশ মাসের সময়সীমায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনারদের মধ্যে যৌথভাবে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর তোলা বিভিন্ন আপত্তির বিষয়টিও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ পিটিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে বিহারে শুরু হওয়া এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া পরবর্তীতে দেশের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে, এর জেরে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ‘ফর্ম-৬’-এ এসআইআর সংক্রান্ত একটি অতিরিক্ত ঘোষণা অন্তর্ভুক্ত করার তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। আবেদনে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশী গত বছরের ১৬ মে এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করে জানিয়েছিলেন যে, এর জন্য বিধিবদ্ধ নিয়মে সংশোধন প্রয়োজন। পরবর্তী সময়ে সুখবীর সিং সান্ধুও এই বিষয়ে আপত্তি তোলেন।

তথ্য ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন রাজ্যের অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন নির্বাচনী তথ্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটি নিয়েও পিটিশনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, বেশ কিছু রাজ্য স্তরের আধিকারিকের ‘ইআরওনেট’ (ERONet)-এ পর্যাপ্ত অ্যাক্সেস ছিল না, যা নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। গোয়ার একটি বিশেষ উদাহরণের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ইআরও-রা ৯৭ জন ভোটারকে যোগ্য বলে ঘোষণা করলেও সফটওয়্যারে নাম পুনরুদ্ধারের সঠিক বিকল্প না থাকায় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার আগে তাদের নাম যুক্ত হয়নি। এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রায় ১৬.১ লক্ষ আপিল জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া ও তার আইনি বৈধতা নিয়ে আদালতে মূল নথি পেশ করার দাবি জানানো হয়েছে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha