সোনার গহনা কিনলেই কি ঠকছেন আপনি? মেকিং চার্জে ৫% ট্যাক্স দাবি করলেই ধরে ফেলুন বড় জালিয়াতি!

সোনা, রুপা কিংবা হিরের গহনা কেনার সময় বহু ক্রেতাই জিএসটি বা করের হিসাব নিয়ে চরম বিভ্রান্তির মুখে পড়েন। অনেক সময় দেখা যায়, অসাধু জহুরীরা সোনার মূল দামের উপর ৩% জিএসটি ধার্য করার পাশাপাশি মেকিং চার্জ বা তৈরির খরচের উপর আলাদাভাবে আরও ৫% জিএসটি দাবি করে বসেন। যদি কোনো গহনা বিক্রেতা আপনার কাছে মেকিং চার্জের উপর আলাদা করে কর আদায় করতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ এক্সাইজ অ্যান্ড কাস্টমস (CBEC)-এর স্পষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ ক্রেতাদের গহনার দামের সাথে মেকিং চার্জের উপর কোনোভাবেই আলাদা করে কর দিতে হয় না। বিলের মধ্যে মেকিং চার্জ আলাদাভাবে উল্লিখিত থাকুক কিংবা মোট দামের সাথে অন্তর্ভুক্ত থাকুক, ক্রেতাকে সর্বদা সম্পূর্ণ বিল মূল্যের উপর এককালীন মাত্র ৩% জিএসটি প্রদান করতে হবে।
সরকারের জিএসটি সেক্টরাল সিরিজ রত্ন ও গহনা সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের খুব স্পষ্ট উত্তর দেয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ১০-গ্রাম সোনার চেইনের বিল তৈরি করা হয় যেখানে সোনার দাম ১,২৮,০০০ টাকা এবং তৈরির খরচ ১২,০০০ টাকা দেখানো হয়েছে, তবে চেইনটির মোট মূল্য দাঁড়ায় ১,৪০,০০০ টাকা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এই সম্পূর্ণ ১,৪০,০০০ টাকার উপর মাত্র ৩% জিএসটি প্রযোজ্য হবে, যার সঠিক পরিমাণ দাঁড়ায় ৪,২০০ টাকা। কিন্তু কোনো দোকানদার যদি সোনার মূল দামের উপর ৩% কর (৩,৮৪০ টাকা) নেওয়ার পাশাপাশি তৈরির খরচের উপর আরও ৫% (৬০০ টাকা) বাড়তি যোগ করে মোট কর ৪,৪৪০ টাকা দাবি করেন, তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। অর্থাৎ এক্ষেত্রে অসচেতনতার কারণে ক্রেতার পকেট থেকে অতিরিক্ত ২৪০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়, যা আইনত অপরাধ।
বাজারে প্রচলিত এই ৫% জিএসটি নিয়ে বিভ্রান্তির মূল উৎস হলো ব্যবসায়িক লেনদেন। বাস্তবে এই ৫% কর সাধারণ খুচরা ক্রেতাদের জন্য কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়, এটি শুধুমাত্র গহনা প্রস্তুতকারক এবং কারিগরদের মধ্যকার লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। যখন কোনো গহনা ব্যবসায়ী অলংকার তৈরির জন্য তাঁর কারিগরদের কাছে কাঁচা সোনা সরবরাহ করেন এবং কারিগর যদি জিএসটি নিবন্ধিত হন, তবে তিনি তাঁর পারিশ্রমিকের উপর ৫% কর ধার্য করেন। কিন্তু শোরুম থেকে ফিনিশড গহনা ক্রয়কারী কোনো সাধারণ গ্রাহকের বিলের সঙ্গে এই ৫% কর কখনোই যুক্ত করা যায় না। এমনকি সাম্প্রতিক জিএসটি কাউন্সিল বৈঠকে কর কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসলেও গহনা খাতের পুরনো ৩% করের হার সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে গহনা কেনার সময় সঠিক নিয়ম জেনে রাখা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের একান্ত কর্তব্য।