৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম! স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে ফেরার প্রাক্তন BDO-কে নজিরবিহীন নির্দেশ হাইকোর্টের

দত্তাবাদের চাঞ্চল্যকর স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় আরও বড়সড় বিপাকে রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও (BDO) প্রশান্ত বর্মন। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক অভিযুক্ত এই আধিকারিকের বিরুদ্ধে এবার তীব্র কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ ৮ অক্টোবর বিকেল ৩:৩০-এর মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাঁর সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি বেতন বন্ধের নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই কড়া নির্দেশ দেয়। রাজ্য পুলিশ বা সিআইডিকে আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতির বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

কী এই দত্তাবাদ হত্যাকাণ্ড?

গত বছরের ৩০ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছিতে খালের ধার থেকে মেদিনীপুরের মোহনপুরের বাসিন্দা স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ অপহরণ ও খুনের মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে এই খুনের ঘটনায় জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাম সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক। যদিও শুরু থেকেই এই অভিযোগে নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে এসেছেন অপসারিত এই বিডিও।

চোখের সামনে নীল বাতির গাড়িতে অপহরণ!

এই ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী এবং দোকান মালিকের বয়ান ছিল অত্যন্ত বিস্ফোরক। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ঘটনার দিন একটি নীল বাতি লাগানো সাইরেন বাজানো গাড়ি এসে দত্তাবাদ থেকে তাঁদের তুলে নিয়ে যায়। দোকান মালিক এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে দুটি আলাদা গাড়িতে চাপানো হয়েছিল। একটি গাড়িতে ছিলেন বিডিও প্রশান্ত বর্মন নিজেই। পরবর্তীতে দোকান মালিককে নিউটাউনের এক বহুতলের সামনে ছেড়ে দেওয়া হলেও ব্যবসায়ীকে সেই বহুতলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার দু’দিনের মাথায় উদ্ধার হয় অপহৃত ব্যবসায়ীর দেহ।

ইতিমধ্যেই এই মামলায় প্রাক্তন বিডিও-র একাধিক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার মূল অভিযুক্ত বিডিও-র ওপর আইনের কোপ আরও শক্ত হওয়ায় জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে গোটা রাজ্যে।