মায়ের নামে কুরুচিকর মন্তব্য! মদের আসরে তর্কের জেরে ধারালো অস্ত্রের এলোপাথাড়ি কোপে রক্তাক্ত ব্যক্তি, কাণ্ড দেখলে শিউরে উঠবেন

মদের আসরে সামান্য বচসা কীভাবে এক নিমেষে মর্মান্তিক খুনে রূপ নিতে পারে, তার সাক্ষী রইল উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল। মায়ের নামে কটূক্তি করার প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল। এই লোমহর্ষক ঘটনায় ইতিমধ্যেই এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নৃশংস এই কাণ্ডের পর অভিযুক্ত নিজেই সরাসরি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল জগদ্দলের তিনসুকিয়ায়?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রাতে জগদ্দলের তিনসুকিয়া এলাকায় কয়েকজন মিলে একটি মদের আসর বসিয়েছিল। সেই আসরেই কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় মৃত ৪৯ বছর বয়সি ওই ব্যক্তির মায়ের নামে আপত্তিকর বা কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়। নিজের মায়ের নামে এমন কটূক্তি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি ওই ব্যক্তি। তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

প্রতিবাদ করার পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সেই মুহূর্তেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যক্তির ওপর চড়াও হয় অভিযুক্ত ‘কাউ’ নামের এক ব্যক্তি। হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে একের পর এক এলোপাথাড়ি কোপ মারা হয়, যার ফলে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি।

হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা

রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা পরীক্ষা করার পর তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর চাউর হতেই এলাকায় শোক ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এদিকে কাউকে পালানোর সুযোগ না দিয়ে ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক অভিযুক্ত নিজেই সোজা জগদ্দল থানায় গিয়ে হাজির হয় এবং পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঠিক কী কারণে এই নির্মম খুন ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তাকে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মদের আসরে সামান্য কথা কাটাকাটি যে এত বড় অপরাধের জন্ম দিতে পারে, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।