বাংলা থেকে সোজা উত্তর-পূর্ব! জামাতের ছায়া সংগঠন IMK-র ভয়ংকর নাশকতার ছক ফাঁস, এনআইএর জালে ১৩

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসম ও ত্রিপুরা—উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে জেএমবির (JMB) ছায়া সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফিলা’ বা আইএমকে (IMK)-র শিকড় কতটা গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। সম্প্রতি দেশের ১৬টি ভিন্ন জায়গায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ১৩ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
তদন্তে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে জেএমবির জেলমুক্ত বেশ কিছু সদস্য ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরপরই পশ্চিমবঙ্গকে করিডর হিসেবে ব্যবহার করে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাংগঠনিক জাল বিস্তারের পরিকল্পনা করা হয়। এনআইএর গুয়াহাটি শাখার হাতে আসা তথ্যের ভিত্তিতে এর আগে ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল। সেই চার্জশিটেই অসমের নাসিমুদ্দিন এবং ত্রিপুরার জাগির মিয়াঁর নাম উঠে আসে, যাঁরা এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ।
এই মামলার তদন্তের পরিধি বাড়াতে পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং কেরালা সহ মোট ১৬টি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে অসম থেকে আটজন, বাংলা থেকে চারজন এবং কেরালা থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু মোবাইল ফোন, মেমোরি কার্ড এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে এই ডিভাইসগুলির তথ্য খতিয়ে দেখে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন যে বাংলা বা উত্তর-পূর্বের অন্য কোনো রাজ্যে এই সংগঠনের বড় কোনো স্লিপার সেল সক্রিয় রয়েছে কি না। ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে এই নাশকতার মাস্টারমাইন্ডদের সন্ধান চালাচ্ছে এনআইএ।