পাহাড়ে ঢেলে সাজানো হচ্ছে পর্যটন! রোপওয়ে থেকে কালিঝোরার ঐতিহাসিক বাংলো সংস্কার, ৬ মাসের বিরাট মাস্টারপ্ল্যান

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন রূপ দিতে এবং পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে আগামী ছয় মাসের এক বলিষ্ঠ রূপরেখা তৈরি করল রাজ্য সরকার। বুধবার শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউসে পর্যটন দফতর ও গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাহাড়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন, যানজট মুক্তি এবং নতুন আকর্ষণ তৈরির বিষয়ে একগুচ্ছ যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের প্রধান সিদ্ধান্ত ও মাস্টারপ্ল্যান: পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, দুই জেলার জেলাশাসক এবং জিটিএ প্রশাসনের উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রূপায়ণের সিদ্ধান্ত হয়েছে:
ঐতিহাসিক স্থানের সংস্কার: কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘অনুসন্ধান’-এর শুটিং ক্ষেত্র তথা পাহাড়ের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্য কালিঝোরার পুরনো বাংলোটি নতুন করে সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি মহাকাল মন্দির, সেবকের কালীমন্দির এবং মংপুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলির পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো হবে।
নতুন রোপওয়ে ও যানজটমুক্তি: দার্জিলিংকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এবং চিরন্তন যানজটের সমস্যা মেটাতে একযোগে পাঁচটি নতুন রোপওয়ে প্রকল্প চালুর প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
হোম-স্টে নীতি ও ডিজিটাইজেশন: দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে বহু হোম-স্টে এখনও অসংগঠিত ও অনথিভুক্ত থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুরো হোম-স্টে ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও অনলাইনের আওতায় আনা হচ্ছে। শীঘ্রই নতুন সংশোধনমূলক ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি পলিসি আনা হবে। কেন্দ্র সরকারের প্রাপ্ত ৫৭ কোটি টাকার বিশেষ বাজেট এই সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে।
উৎসব ও বিনোদন: পর্যটকদের টানতে টি ফেস্টিভ্যাল, ভিন্টেজ কার র্যালি, ওয়াকাথন, রিভার রাফটিং, প্যারাগ্লাইডিং এবং পাহাড়ের সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে বড়মাপের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আয়োজন করা হবে।
আসন্ন দুর্গাপুজোয় বিশেষ চমক: আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের পর্যটনে বিশেষ আমেজ আনতে দার্জিলিংয়ের চকবাজার ও ম্যাল রোড বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হবে। পাশাপাশি নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্যটকদের কাছে পুজোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রাজস্ব বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরিই এখন রাজ্য প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।