পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণিতে বাধ্যতামূলক কম্পিউটার শিক্ষা! বড় ঘোষণায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল, আর কী বদলাচ্ছে সিলেবাসে?

স্কুলের পাঠ্যক্রমে ঐতিহাসিক ও পাঠ্যক্রমগত এক বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির সিলেবাসে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হচ্ছে তথ্য ও প্রযুক্তি বা ‘আইসিটি’ (ICT) পাঠ্যবই। পাশাপাশি, পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে সিঙ্গুরের আন্দোলনের অধ্যায়। তার পরিবর্তে নতুন সিলেবাসে জায়গা পাচ্ছে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ইতিহাস।
বিকাশ ভবনে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যজুড়ে শিক্ষাক্ষেত্রে এই সমস্ত বড় পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। পাঠ্যক্রমের আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি এদিন টেট আন্দোলন, পার্শ্বশিক্ষকদের দাবি এবং আগামী বছরের বোর্ড পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
সিলেবাসে কী কী নতুন সংযোজন ও বাদ পড়ছে?
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এতদিন আইসিটি বা কম্পিউটার শিক্ষার জন্য নির্দিষ্ট কোনো পাঠ্যপুস্তক বা বিধিবদ্ধ সিলেবাস ছিল না। এবার পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত পাঠ্যক্রমের অঙ্গ হিসেবে সরকারি আইসিটি বই পড়ানো হবে। একইসঙ্গে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষা হিসেবে সংস্কৃত, আরবি ও হিন্দি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নতুন সিলেবাসে আর থাকছে না সিঙ্গুরের আন্দোলনের ইতিহাস। এপ্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “সিঙ্গুরের গল্প ইতিহাসে দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে অতীতে বিতর্ক ও গোলযোগ তৈরি হয়েছিল। তাই তা সংশোধন করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ইতিহাসকে পাঠ্যবইয়ে যথাযথ স্থান দেওয়া হয়েছে।”
পরীক্ষা পেছানোর ইঙ্গিত ও অন্যান্য বড় ঘোষণা
সাংবাদিক বৈঠক থেকে শিক্ষক নিয়োগ এবং বোর্ডের পরীক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক বড় বার্তা দিয়েছেন দীপক বর্মন:
বোর্ড পরীক্ষা পিছানোর সম্ভাবনা: দিল্লি সেনসাস বোর্ডের জনগণনার বিজ্ঞপ্তির কারণে পূর্বঘোষিত মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনক্ষণ বদলানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। মাধ্যমিক পিছলে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সূচিতেও রদবদল হবে। তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে কোনোভাবেই উচ্চমাধ্যমিক নেওয়া হবে না এবং সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার ক্ষেত্রেও কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হবে।
টেট ও এসএসসি নিয়োগ: টেট চাকরিপ্রার্থীদের নতুন পদ পুরনো শূন্যপদের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি নাকচ করে দিলেও, আইনি জট কাটলেই ২০১৬-র এসএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী নতুন নিয়োগ শুরু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। এছাড়া পার্শ্বশিক্ষকদের বেতনের বিষয়ে রাজ্য সরকারের সীমাবদ্ধতার কথাও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রের এই বড়সড় পরিবর্তন এবং নতুন পাঠ্যক্রম নিয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।