গোপনাঙ্গ কাটা অবস্থায় ছাদ থেকে রহস্যজনক মৃত্যু! সন্ত প্রেমানন্দের আশ্রমে শিষ্যর মর্মান্তিক পরিণতিতে বিরাট বদল

শান্ত, মনোরম ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে সাধনা করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বৃন্দাবনে এসেছিলেন ২৫ বছর বয়সি যুবক রসিক দুলারি শরণ। কিন্তু সেই সাধনার পথেই তাঁর মর্মান্তিক ও রহস্যজনক মৃত্যু গোটা আধ্যাত্মিক মহলে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মথুরা-বৃন্দাবনের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের একনিষ্ঠ শিষ্য ছিলেন রসিক দুলারি। দেশ-বিদেশ থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ভক্ত যেখানে মহারাজের এক ঝলক পাওয়ার জন্য ভিড় জমান, সেখানে এই হাই-প্রোফাইল মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আর এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে আশ্রম কর্তৃপক্ষ, যার জেরে বদলে গেছে সেখানকার সমগ্র নিয়মকানুন।

কী ঘটেছিল সেই রাতে?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃন্দাবনের বরাহ ঘাট রোডে অবস্থিত ‘গউ কৃপা কুঞ্জ’ আশ্রমের ছাদ থেকে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে নিচে পড়ে গিয়ে মারা যান সাধক রসিক দুলারি। এই ঘটনায় সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মৃত যুবকের গোপনাঙ্গ কাটা অবস্থায় ছিল এবং তাঁর শরীর থেকে প্রচুর রক্তপাত হয়েছিল। তিনি নিজে থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন, নাকি নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে—তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক দল এসে সমস্ত নমুনা সংগ্রহ করেছে। যদিও পরিষ্কার করা হয়েছে যে, যে আশ্রমে এই ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে স্বয়ং প্রেমানন্দ মহারাজ থাকেন না।

আশ্রমে কী কী কড়া পরিবর্তন আনা হলো?

শিষ্যের এই রহস্যমৃত্যুর পরেই ভক্ত ও সাধক মহলে চরম অসন্তোষ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সন্ত প্রেমানন্দ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জারি করা হয়েছে নতুন নির্দেশিকা:

  • দীক্ষা বন্ধ: কেলি কুঞ্জ আশ্রমে ভক্তদের দীক্ষা দেওয়ার অনুষ্ঠান আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

  • দর্শনে নিষেধাজ্ঞা: টোকেনের মাধ্যমে যে সাধারণ দর্শন চালু ছিল, তার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

  • অন্যান্য আশ্রমেও কড়াকড়ি: যমুনা বিহার কুঞ্জ এবং বেলবনস্থিত আশ্রমে দীক্ষিত ভক্তদের যে দর্শনের ব্যবস্থা ছিল, তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেবাদারদের মাধ্যমে এই নির্দেশিকা সমস্ত ভক্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

পোশাক পরিচ্ছদেও এল বড় বদল

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে শিষ্যদের পোশাক-আশাকের নিয়মেও বড়সড় পরিবর্তন এনেছেন সন্ত প্রেমানন্দ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী—

  • যে সমস্ত শিষ্য গৃহস্থ বা কোনো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত (যেমন দোকান বা ঠেলা চালান), তাঁদের এখন থেকে সাধারণ পোশাকে বা কুর্তা-পায়জামায় থাকতে বলা হয়েছে।

  • মহারাজজি বা কেলি কুঞ্জের সেবার সঙ্গে যুক্ত গৃহস্থ শিষ্যদের ক্ষেত্রেও সাধারণ পোশাক বা কুর্তা-পায়জামা পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

  • শুধুমাত্র সেই সমস্ত শিষ্যরাই সাদা পোশাক পরার অনুমতি পাবেন, যারা সরাসরি পূজ্য মহারাজজির বিশেষ সেবা অথবা কেলি কুঞ্জের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সেবার কাজে যুক্ত রয়েছেন।

আধ্যাত্মিক এই তীর্থক্ষেত্রে এমন অনভিপ্রেত ঘটনার পর আশ্রম কর্তৃপক্ষের এই কড়া পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।