‘খিঁচ মেরি ফটো… দিদির নাটক এবার দিল্লিও দেখুক!’ সুপ্রিম কোর্টে মমতার সওয়ালকে নজিরবিহীন কটাক্ষ সুকান্তের

নয়া দিল্লির সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (SIR) ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল নিয়ে এবার রণংদেহী মেজাজে বিজেপি। বুধবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মমতার সওয়াল করাকে স্রেফ ‘ক্যামেরার নজর টানার নাটক’ বলে অভিহিত করলেন বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর সাফ কথা, বাংলা যে নাটক প্রতিদিন দেখে, এবার তা দিল্লির মানুষও চাক্ষুষ করুক।

‘খিঁচ মেরি ফটো’ কটাক্ষ: সুকান্ত মজুমদার এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এগুলো সবই নাটক। দিল্লির লোকজনও দেখুন, আপনাদেরও একটু মনোরঞ্জন হয়ে যাক। আমরা তো বাংলায় সারা বছরই দেখি ‘খিঁচ মেরি ফটো’র মহড়া।” তিনি আরও যোগ করেন, কখনও পাহাড়ে গিয়ে পিঠে বাস্কেট বেঁধে চা পাতা তোলা, আবার কখনও রাস্তার ধারের দোকানে ঘুগনি বা চপ ভাজা— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধরণের আচরণ বাংলার মানুষের কাছে পরিচিত। সুকান্তের দাবি, সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করাটাও তেমনই একটি গিমিক ছাড়া আর কিছু নয়।

উত্তম কুমারের সঙ্গে তুলনা ও ‘ফ্লপ’ তকমা: মমতাকে বিঁধতে গিয়ে টলিউডের মহানায়ক উত্তম কুমারের উদাহরণ টানেন সুকান্ত। তিনি বলেন, “বাঙালি হিসেবে আমরা উত্তম কুমারকে বড় সুপারস্টার মানি। কিন্তু ওঁর একমাত্র হিন্দি ছবি ‘ছোটিসি মুলাকাত’ ফ্লপ হয়েছিল। দিদির ক্ষেত্রেও আজ দিল্লির শো পুরোপুরি ফ্লপ।” সুকান্তের মতে, রাজ্য সরকার ক্লাস ২ অবজারভার দেয়নি বলেই কেন্দ্র থেকে মাইক্রো অবজারভার পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী সেই প্রশাসনিক বিষয়কে রাজনৈতিক নাটকে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আদালতে কী ঘটেছিল? এদিন আদালতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে বাংলাকে ক্রমাগত টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি বিচার পাচ্ছি না। নির্বাচন কমিশনকে ছ’বার চিঠি লিখলেও কোনও উত্তর মেলেনি।” যদিও এই মামলার শুনানি আজ সম্পন্ন হয়নি; আগামী সোমবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। তবে শুনানির আগেই সুকান্তের এই ‘মনোরঞ্জন’ এবং ‘ফ্লপ শো’ তকমা নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।