এ কোন কারবার! বাইরে চালের বস্তা, ভেতরে অ্যালুমিনিয়াম ট্যাঙ্কার—পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার আগেই ফাঁদে পাচারকারীরা

পুলিশের চোখে ধুলো দিতে মাদক পাচারের জন্য একবারে অভিনব ও তাক লাগানোর মতো কৌশল নিয়েছিল কারবারিরা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ভিনরাজ্য থেকে কলকাতায় এসে বাস থেকে নামতেই স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফের (STF) জালে ধরা পড়ল তিন যুবক। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ গাঁজা।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি গোয়েন্দাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে বড়োসড়ো কোনো মাদকচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সেইমতো নজরদারি চালিয়েই তিন যুবককে হাতেনাতে পাকড়াও করেন এসটিএফের গোয়েন্দারা। তল্লাশি চালিয়ে ধৃতদের হেফাজত থেকে মোট ১৪.৫৫৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এবং সম্পূর্ণ ভিউগ্রাফি করে ওই মাদক বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা। এর পরেই গোয়েন্দা বিভাগের নারকোটিক সেলের সাব-ইনস্পেক্টরের অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ময়দান থানায় এনডিপিএস (NDPS) আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
যেভাবে ধরা পড়ল পাচারকারীরা
বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ চালের বস্তা ছাড়া অন্য কিছু মনে হওয়ার জো ছিল না। কিন্তু সেই বস্তার গভীরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল আসল জিনিস। বস্তা খুলে যখন বালি ও সিমেন্টের ঢালাই ভাঙা হয়, তখনই গোয়েন্দাদের চোখ কপালে ওঠে। সামনে আসে অ্যালুমিনিয়ামের প্লেটে মোড়া এবং তার দিয়ে বাঁধা একটি বিশেষ ট্যাঙ্কার। সেটি খুলতেই বেরিয়ে আসে একের পর এক গাঁজার প্যাকেট।
আন্তঃরাজ্য যোগের সন্ধান
এসটিএফ সূত্রে খবর, ধৃত তিন যুবকের মধ্যে একজন পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। বাকি দু’জন ওড়িশার বাসিন্দা। ভিনরাজ্য থেকে এই বিপুল পরিমাণ গাঁজা ঠিক কার বা কাদের কাছে এবং কোথায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে এই মাদক পাচারচক্রের মূল মাথা এবং তাদের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত, সেই সমস্ত তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে।