মধ্যবর্তী নির্বাচনে চরম বিপর্যয়! হোয়াইট হাউসে মেজাজ হারিয়ে কাকে ছাঁটাই করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক ‘ব্লু ওয়েভ’ বা ডেমোক্র্যাটিক দলের জোয়ার দেখা গেছে। এই বড় ধাক্কায় সংসদের উভয় কক্ষ থেকেই রিপাবলিকান পার্টিকে হটিয়ে দিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা, যা একাধিক রাজ্যের বিধানসভাতেও রিপাবলিকানদের দীর্ঘমেয়াদি আধিপত্য ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। এই বিপর্যয়ের ফौरन পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল ঘটিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ সুসি ওয়াইলসকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলারকে।

‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের এই হতাশাজনক ফলাফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনেই সুসি ওয়াইলসের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, হোয়াইট হাউসের ভেতরের গোপন খবর ও তথ্য যারা বাইরে ‘লিক’ করছেন, তাঁদের ধরতে প্রশাসন চরম অলসতার পরিচয় দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প এমন অভিযোগও তুলেছেন যে স্বয়ং সুসি ওয়াইলসও এই তথ্য ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

জনসমক্ষে নামমাত্র ভূয়সী প্রশংসা করা হলেও বন্ধ দরজার আড়ালে যে চরম অসন্তোষ চলছিল, তা এই পদচ্যুতির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে। ভোটের খারাপ ফলের সমস্ত দায় সুসি ওয়াইলস ও অন্যান্য রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের ঘাড়ে চাপিয়ে ট্রাম্প ক্ষোভ উগড়ে দেন। অবশ্য পদ থেকে সরে যাওয়ার পর ওয়াইলস ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন এবং প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য ও মিশনের প্রতি নিজের অবিচল নিষ্ঠার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে, স্টিফেন মিলারের এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ মার্কিন রাজনীতিতে এক আগ্রাসী মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক পরপরই ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার নরম সুর চড়ালেও, সেই সমঝোতার মনোভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কট্টর অভিবাসন বিরোধী ও কঠোর নীতিপ্রণেতা হিসেবে পরিচিত স্টিফেন মিলারকে কমান সঁপে দিয়ে ট্রাম্প তাঁর অতি পরিচিত ‘মাগা’ (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) এজেন্ডায় ফিরে গেছেন। মিলার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক আপসে যাওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে তাঁদের নেই। বরং কংগ্রেসের তরফ থেকে আসা সমস্ত সমন ও তদন্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে এবং কোর ভোটারদের একত্রিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বর্তমান প্রশাসন।