আদবানির ১০০ তম জন্মদিনে দিল্লির বিজেপির দফতরে মহাযজ্ঞ! কোন ঐতিহাসিক কথা মনে করালেন নীতিন নবীন?

ভারতীয় জনতা পার্টির প্রবীণতম নেতা ও প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানির ১০০তম জন্মবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত হলো এক বিশেষ অনুষ্ঠান। দিল্লির বিজেপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক মহাযজ্ঞের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন আদবানির রাম মন্দির আন্দোলনে ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আজ অযোধ্যায় যে রাম মন্দির মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তা আদবানির দশকের পর দশক ধরে চালানো সংগ্রামেরই ফল।
নবীন তাঁর বক্তব্যে আদবানির ঐতিহাসিক ‘রাম রথযাত্রা’ এবং বিহারের সমস্তিপুরে তা আটকে দেওয়ার ঘটনাটির স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, সেই সময় আমরা খুব ছোট ছিলাম, তবুও পুরো দেশ যে কীভাবে এই আন্দোলনের সঙ্গে আবেগগতভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছিল তা স্পষ্ট অনুভব করতে পারতাম। সমস্তিপুরে যাত্রা থামিয়ে দেওয়ার পরেও কারসেবকরা পিছু হটেননি। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আদবানির সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। দেশভাগের যন্ত্রণা সহ্য করেও আদবানি কীভাবে ‘রাষ্ট্র সর্বপ্রথম’ নীতিকে আঁকড়ে ধরেছিলেন, তা আজও বিজেপি কর্মীদের বড় অনুপ্রেরণা।
তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, মাত্র দুটি লোকসভা আসন জেতা বিজেপিকে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছে দেওয়ার নেপথ্যে অটল বিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আদবানির অবদান অবিস্মরণীয়। চরম হতাশার মাঝেও এই দুই জননেতা আশার আলো জ্বেলেছিলেন।
অন্যদিকে, এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও আদবানির ৯৯তম জন্মদিন উপলক্ষে সোশাল মিডিয়ায় এক বিশেষ নিবন্ধ শেয়ার করেছেন। মোদী উল্লেখ করেন, ১৯৪৭ সালে সিন্ধু প্রদেশ থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে সব হারানোর পরেও কোনো তিক্ততা ছাড়া আদবানি যেভাবে নিজেকে ও দলকে গড়ে তুলেছিলেন তা ঐতিহাসিক। ১৯৮৯ সালে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা কমে আসা এবং ১৯৯৬ সালে বিজেপির প্রথমবার দেশের বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের নেপথ্যে আদবানির দক্ষ নেতৃত্বই প্রধান শক্তি ছিল।