পটুয়াপাড়ায় প্রতিমা আনা ঘিরে হাতাহাতি থেকে ইটবৃষ্টি! কালীঘাটে গভীর রাতে ঠিক কী ঘটেছিল?

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার গভীর রাত থেকে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট চত্বরে। ঘটনার জল গড়ায় শনি ও রবিবারেও। পুলিশের ওপর হামলা, দফায় দফায় হাতাহাতি ও ইটবৃষ্টির ঘটনায় রবিবার পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। সূত্রের খবর, কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মীকে চড় মারার অভিযোগে একবালপুরের দুই যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই কালীঘাট থানার পুলিশ ৪টি পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আবার বিজেপি কর্মীদের পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশের ওপর হামলার দায়ে পুলিশ দুটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে— যার একটিতে নাম রয়েছে খোদ অভিষেকের। লালবাজারের তরফে ওই এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল শুক্রবার রাতে?
শুক্রবার রাত দেড়টা নাগাদ অভিষেকের কালীঘাট রোডের বাড়ির সামনে তাঁর অনুগামীরা জন্মদিনের উদযাপনে জড়ো হন। ঠিক সেই সময় স্থানীয় পটুয়াপাড়া থেকে কালী প্রতিমা নিয়ে ফিরছিলেন কিছু বিজেপি সমর্থক। অভিযোগ, সেই সময় দু’পক্ষের মধ্যে ‘চোর চোর’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে বচসা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা হাতাহাতি ও ইটবৃষ্টির রূপ নেয়। ভোররাত পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে তৃণমূলের কিছু কর্মী-সমর্থক পুলিশের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ।

শনিবার সকালেও এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ ব্যারিকেড সরানোর দাবিতে অভিষেকের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এই পুরো ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কিছু পুলিশ কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন, যাদের বিরুদ্ধে ডিমোশনসহ কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জেলখানাকেই পার্টি অফিস বানানোর কথা বলেন তিনি।