দীপাবলির মুখে তুকারাম মুন্ধের মেগা স্ট্রাইক! সরকারি কোপে জেপ্টো, ব্লিঙ্কইট সহ ১০৫টি সংস্থা, লাইসেন্স সাসপেন্ড

দীপাবলিতে যখন আলো আর উৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা গোটা দেশ, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল মহারাষ্ট্র সরকার। রাজ্য ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)-এর কড়া কমিশনার তুকারাম মুন্ধের নেতৃত্বে রাজ্যজুড়ে চলেছে এক অভূতপূর্ব অভিযান।
স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্যসুরক্ষার চরম গাফিলতি ধরা পড়ায় এক ধাক্কায় ১০৫টিরও বেশি খাদ্য প্রস্তুতকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত (Suspend) করা হয়েছে। অন্যদিকে ৭টি রেস্তোরাঁ ও খাদ্য প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল (Cancel) করেছে রাজ্য সরকার।
ব্লিঙ্কইট ও জেপ্টোর মতো সংস্থাও ছাড় পেল না!
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত ৪ এবং ৫ নভেম্বর মহারাষ্ট্র জুড়ে চালানো এই দু’দিনব্যাপী অভিযানে ৬৯টিরও বেশি বড় প্রতিষ্ঠানে একযোগে হানা দেন এফডিএ আধিকারিকেরা। সরকারি অভিযানে প্রায় ১.৩৫ কোটি টাকা অর্থমূল্যের ৩৯,৪৮৫ কেজিরও বেশি নিম্নমানের ও ভেজাল খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো— যাদের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত বা কোপের মুখে পড়েছে, সেই তালিকায় রয়েছে ‘ব্লিঙ্ক কমার্স’ (Blinkit) এবং ‘জেপ্টো’ (Zepto)-র মতো জনপ্রিয় ও অতিপরিচিত কুইক-কমার্স গ্রোসারি প্ল্যাটফর্মের ডার্ক স্টোর ও গোডাউনগুলিও।
মুম্বইয়েই মারাত্মক অবস্থা, বাজেয়াপ্ত কালাকাঁদ ও লাড্ডু
শুধু অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বই শহর ও সংলগ্ন এলাকা থেকেই ২৮টি খাবারের দোকানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। ‘রাজধানী বিরিয়ানি সেন্টার’ নামে এক নামী খাবার দোকানের লাইসেন্স সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
মুম্বই মেট্রোপলিটন এলাকা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ১৩.৮৭ লক্ষ টাকা মূল্যের প্রায় ২,৩৯৬ কেজিরও বেশি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যসামগ্রী।
মালাড এলাকা: ‘জেঠারাম চুনিরাম পুনিয়া’ নামের এক খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থা থেকে লাইসেন্স ও প্যাকেজিং লেবেলিং ছাড়াই তৈরি করা প্রচুর পরিমাণ বেআইনি খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়।
ভিলে পার্লে এলাকা: ‘জামনাগরি সুইটস অ্যান্ড ফারসান’ থেকে ক্ষতিকারক কেমিক্যালযুক্ত কৃত্রিম রঙের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে ৪৪ কেজি কালাকাঁদ ও বুন্দিয়ার লাড্ডু বাজেয়াপ্ত করেন খাদ্যসুরক্ষা আধিকারিকরা।
তদন্তে ধরা পড়ল চরম গাফিলতি
এফডিএ-র তদন্তকারী টিমের রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযান চলাকালীন যে সমস্ত দোকানে অনিয়ম ধরা পড়েছে সেখানে ছিল: ১. চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রস্তুতপ্রণালী। ২. কর্মীদের মেডিকেল ফিটনেস সনদ ও সঠিক ট্রেনিংশীটের অনুপস্থিতি। ৩. বৈধ লাইসেন্স ও সরকারি নিয়মকানুনের চূড়ান্ত লঙ্ঘন।
“কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না!”— কড়া হুংকার তুকারাম মুন্ধের
উৎসবের মরশুমে ভেজাল মিষ্টি ও নিম্নমানের খাদ্য বিক্রি রুখতে আগেই সব সংস্থাকে সতর্ক করেছিল প্রশাসন। এই অভিযানের পর এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুন্ধে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বার্তা দিয়ে জানান, “আমজনতার স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো রকম খেলোয়াড়বৃত্তি বরদাস্ত করা হবে না। সংস্থা ছোট হোক কিংবা আন্তর্জাতিক মানের বড় কুইক-কমার্স ব্র্যান্ড— নিয়ম ভাঙলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।” উৎসবের মরশুম জুড়ে এই সারপ্রাইজ ভিজিট ও আচমকা মেগা অভিযান জারি থাকবে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর।