লরেন্স বিষ্ণোইদের মতো গ্যাংস্টারদের জন্য বড় ফাঁদ? বন্দি বদল ও ড্রোন উড়ানো নিয়ে কড়া আইন জারি কেন্দ্রে

কেন্দ্রীয়শাসিত অঞ্চল চণ্ডীগড়ের প্রশাসনিক কাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) জারি করা সাম্প্রতিক এক বিশেষ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে চণ্ডীগড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বলবৎ করা হলো ‘পঞ্জাব পুলিশ অ্যান্ড কারেকশনাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট, ২০০৬’। পঞ্জাব পুনর্গঠন আইন, ১৯৬৬-এর ৮৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই সংশোধিত পঞ্জাব আইনটি চণ্ডীগড়ে লাগু করা হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে চণ্ডীগড় এবং দেশের অন্য যেকোনো রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে বন্দি স্থানান্তর (Prisoner Transfer) এবং জেল প্রশাসনের কার্যপ্রণালীতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন এই আইনের ফলে চণ্ডীগড়ের মডেল সেন্ট্রাল জেলে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদী এবং বিচারাধীন (Under-trial) বন্দিদের নিরাপত্তার স্বার্থে দেশের যেকোনো প্রান্তে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। নোটিফিকেশন অনুযায়ী, চণ্ডীগড়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত, মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত বা অন্যান্য অপরাধে বন্দি থাকা ব্যক্তিদের চণ্ডীগড় প্রশাসনের আদেশে এবং সংশ্লিষ্ট অন্য রাজ্য সরকারের সম্মতিক্রমে দেশের অন্য যেকোনো রাজ্যের জেলে পাঠানো যাবে। ঠিক একইভাবে, অন্য রাজ্য থেকে কোনো বিপজ্জনক বা হাই-প্রোফাইল কয়েদীকে চণ্ডীগড় জেলে নিয়ে আসা যাবে। তবে বিচারাধীন কয়েদিদের ক্ষেত্রে যে আদালতে মামলা চলছে, সেই আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ড্রোন চলাচলের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। চণ্ডীগড়ের আকাশসীমা বা নো-ফ্লাই জোনে অনুমতি ছাড়া কোনো প্রকার ড্রোন বা অন্য যেকোনো উড়ন্ত বস্তু ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষেই কেবল নির্দিষ্ট কাজে ড্রোন ব্যবহারের ছাড়পত্র মিলবে। কেন্দ্রের এই কঠোর সিদ্ধান্তে চণ্ডীগড় জেলের সার্বিক নিরাপত্তায় বড়সড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।