অযোধ্যায় বড় মাস্টারস্ট্রোক অখিলেশের! ভোটের সমীকরণ বদলাতে ১২ ডিসেম্বর সোজা রাম মন্দিরে এসপি প্রধান

সমাজবাদী পার্টির (এসপি) জাতীয় সভাপতি তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব আগামী ১২ই ডিসেম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সফরে অযোধ্যা গমন করতে চলেছেন। ছোট দীপাবলি উপলক্ষে সমাজবাদী পার্টির বিশিষ্ট নেতা পবন পান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের তারিখ ও সূচি ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, আগামী শনিবার, ১২ই ডিসেম্বর অখিলেশ যাদব অযোধ্যায় পা রাখবেন এবং পবিত্র হনুমানগড়ি মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি রামলালার দর্শন করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরপ্রদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অখিলেশের এই অযোধ্যা সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে অযোধ্যা সফরের সময় অখিলেশ যাদব নিজেই তাঁর এই বিশেষ সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করার সমস্ত দায়িত্ব সঁপে দিয়েছিলেন পবন পান্ডেকে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী আজ দিনটি প্রকাশ্যে আনলেন পান্ডে। প্রসঙ্গত, রাম মন্দির নির্মাণের পর থেকেই অযোধ্যা রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যদিও এই আসন্ন সফরে সমাজবাদী পার্টির প্রধানের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক জনসভা বা রাজনৈতিক ইভেন্টের কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এই সফরকে নিছক ধর্মীয় ভাবাবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে নারাজ রাজনৈতিক মহল।

ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই অখিলেশ যাদবের এই অযোধ্যা সফর অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফাইজাড (অযোধ্যা) আসনে সমাজবাদী পার্টির ঐতিহাসিক বিজয়ের পর থেকেই অযোধ্যা দেশজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ওই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টি অবধেশ প্রসাদকে প্রার্থী করেছিল, যিনি হেভিওয়েট বিজেপি প্রার্থী লাল্লু সিংকে পরাজিত করে বড় চমক সৃষ্টি করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর অখিলেশ যাদবের এই অযোধ্যা সফর এবং রামলালার দরবারে হাজিরা দেওয়া এক অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অতীতেও অখিলেশ যাদব অযোধ্যা এবং রাম মন্দির সংক্রান্ত বিষয়ে নিজের অবস্থান ও মতামত স্পষ্ট করেছেন। এমনকি রাম মন্দির নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অনুদান সংক্রান্ত নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি তৎকালীন রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করতেও পিছপা হননি। এর পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টি বরাবরই সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়ে নিজেদের এমন এক রাজনৈতিক দল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে আসছে, যারা সমস্ত ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১২ই ডিসেম্বর অখিলেশের এই অযোধ্যা সফর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে।