ভয় বড়ছে পরীক্ষার্থীদের! রাজস্থান বোর্ডের নতুন নিয়মে বড় চমক, কবে থেকে শুরু পরীক্ষা?

রাজস্থান মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (RBSE) আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৭ সালের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। বোর্ডের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭ থেকে শুরু হতে চলেছে এই মেগা পরীক্ষা। বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সমস্ত পরীক্ষা নির্ধারিত দিনে সকালের শিফটে অর্থাৎ সকাল ১০:৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। যদিও বোর্ড এই মুহূর্তে কেবল পরীক্ষা শুরুর মূল তারিখটিই প্রকাশ্যে এনেছে, তবে খুব শীঘ্রই বিষয়ভিত্তিক বিস্তারিত ডেটশিট বা রুটিন অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘোষণা সামনে আসার পরই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে।

পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে রাজস্থান বোর্ডের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে অফিশিয়াল পোর্টালে (rajeduboard.rajasthan.gov.in) বিষয়ভিত্তিক মডেল প্রশ্নপত্র বা স্যাম্পল পেপার প্রকাশ করা হয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণির ক্ষেত্রে কলা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য এবং কৃষি বিজ্ঞান—প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা মডেল পেপার উপলব্ধ করা হয়েছে। এই প্রশ্নপত্রগুলি সমাধান করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঠিক প্যাটার্ন এবং নিজেদের প্রস্তুতির মান সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারবে, যা তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বাড়তি সুবিধা দেবে।

চলতি শিক্ষাবর্ষে রাজস্থান বোর্ড দশম শ্রেণির পরীক্ষা পদ্ধতিতেও এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। নতুন নীতি অনুযায়ী, এখন থেকে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা বছরে দু’বার অনুষ্ঠিত হবে। বোর্ড সচিবের জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ছাত্রছাত্রীদের ওপর থেকে মানসিক পরীক্ষার চাপ অনেকাংশেই কমানোই এই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। এর ফলে কোনো শিক্ষার্থী প্রথম দফায় আশানুরূপ ফল করতে না পারলে, তারা তাদের প্রাপ্ত নম্বর সংশোধনের জন্য দ্বিতীয়বার আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ পাবে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে বহু শিক্ষার্থীর মূল্যবান শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পাবে এবং তারা নিজেদের ফলাফল আরও উন্নত করার সুযোগ পাবে।

পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বোর্ডের তরফ থেকে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের বহু আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে এবং সঙ্গে অবশ্যই অ্যাডমিট কার্ড বা প্রবেশপত্র এবং একটি বৈধ ছবিযুক্ত ফটো আইডি কার্ড রাখতে হবে। এগুলি ছাড়া কোনো অবস্থাতেই পরীক্ষা হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর কিংবা যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক গ্যাজেট পরীক্ষাকেন্দ্রে বহন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। উত্তরপত্র লেখার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে—নির্দিষ্ট স্থানেই রোল নম্বর লিখতে হবে, উত্তর লেখা শেষের পর শেষ পৃষ্ঠায় বাধ্যতামূলকভাবে “Finished” লিখতে হবে এবং বাকি সমস্ত ফাঁকা পৃষ্ঠায় কোণাকুণিভাবে দাগ টেনে কেটে দিতে হবে। পাশাপাশি, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (Divyang) পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে অতিরিক্ত আরও এক ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে তারা স্বস্তিতে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারে।