‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’ থেকে যাদবপুর-প্রেসিডেন্সি পরিষ্কারের চরম নিদান! শুভেন্দুর মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে চরম তোলপাড়

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে ফের এক বিস্ফোরক এবং বিতর্কিত মন্তব্য করে চরম শোরগোল ফেলে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কলকাতার মানিকতলায় একটি কালীপুজোর উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদকে (ABVP) যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তথাকথিত ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’, ‘দিমাগী নকশাল’, এবং ‘আরশোলা-ছারপোকা’দের সাফ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর এই চরম হুংকার ঘিরেই বর্তমানে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে।
এদিন মানিকতলার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন যে, যাদবপুর এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমস্ত রাষ্ট্রবিরোধী উপাদান ও আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হবে। বিশ্ববর্তীর সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন হিসেবে এবিভিপি-র রাষ্ট্রবাদী ভাইবোনেরা যে কাজ করছে, তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই আন্দোলন যেন কোনোভাবেই থমে না থাকে। এরপরই অত্যন্ত আপত্তিকর ও রূপক অর্থে আক্রমণ শানিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, “যেটুকু যেখানে যা আগাছা আছে, ব্লিচিং পাউডার, ফিনাইল যা লাগবে সব আমরা সরবরাহ করব। পরিষ্কার করতেই হবে।” অতীতে রাজ্যে ৩৪ বছর বাম শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন যে, রাজ্যের কৃতি প্রশাসন ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং এবার রাজ্যে সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রবাদের জয়গান হবে।
এরপর আহিরীটোলায় অন্য একটি পুজো উদ্বোধনে গিয়েও কলকাতার সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে শুভেন্দু বলেন, শহরজুড়ে অলিতে-গলিতে নানা ধরনের ক্ষতিকর উপাদান ও অপশক্তি ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাই সকলকে সাবধানে ও সতর্ক থাকতে হবে। উল্লেখ্য, গত অগাস্ট মাসেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের সময় বিজেপি ও সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময় রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে এবিভিপি সরাসরি দলের কোনো শাখা সংগঠন নয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দলীয় হস্তক্ষেপের প্রশ্ন নেই। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর এই সরাসরি নিদান ও আক্রমণাত্মক বাচনভঙ্গি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে।