সনিয়ার বিস্ফোরক মন্তব্যে কুপোকাৎ মোদী সরকার! গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগে রাজনীতিতে চরম তোলপাড়

আসন্ন আত্মজীবনী প্রকাশের প্রাক্কালে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিজেপি সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। সম্প্রতি এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, গত ১২ বছরে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করতে সরকার বদলালেও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে। তবে তিনি আশাবাদী যে, দেশের সাধারণ মানুষ এখন পরিস্থিতি বুঝতে পারছেন এবং ধীরে ধীরে এই ক্ষতি নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছেন। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলে ফের নীতিভিত্তিক রাজনীতি ফিরবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরেই এই মন্তব্য করেন তিনি।
সোনিয়ার এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পরেই পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে শাসক দল। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল তীব্র ভাষায় কংগ্রেস নেত্রীকে নিশানা করে ১৯৭৫ সালের কুখ্যাত জরুরি অবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলার আগে কংগ্রেসের অতীতের সেই অন্ধকার অধ্যায়ের কথা ভাবা উচিত, যখন হাজার হাজার বিরোধী নেতাকে বিনা বিচারে কারাগারে বন্দি করা হয়েছিল এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। উল্টোদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত এক দশকে দেশের গণতান্ত্রিক বনিয়াদ আরও মজবুত হয়েছে এবং ভারতকে বিশ্বমঞ্চে ‘গণতন্ত্রের জননী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
সাক্ষাৎকারে দেশের নির্বাচন কমিশন এবং সমান্তরাল নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সোনিয়া গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান জমানায় বিরোধীরা আর সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন সহ দেশের প্রধান প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর শাসক দলের নগ্ন নিয়ন্ত্রণ, মূলধারার মিডিয়ার একাংশের পক্ষপাতিত্ব, দেদার অর্থের ব্যবহার এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের অপব্যবহার বিরোধীদের পথ কঠিন করে তুলেছে। পাশাপাশি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছে কংগ্রেস। এমনকি ভোট চুরির অভিযোগ তুলে ব্যালট পেপারে ভোট ফিরিয়ে আনার জোরদার দাবিও জানিয়েছে তারা।
একাধিক নির্বাচনে লাগাতার পরাজয়ের মুখেও কংগ্রেস কর্মীরা যে পিছু হঠছেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সোনিয়া। তাঁর দাবি, চরম দমনপীড়ন ও নানা চাপের মুখেও দল এবং তার সমমনোভাবাপন্ন শরিকরা সংবিধানের মূল কাঠামোগত মূল্যবোধ রক্ষায় আপসহীন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি কোনায় কংগ্রেসের রাজনৈতিক সম্ভাবনা ক্রমশ উজ্জ্বল হচ্ছে বলেও তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন। রাজনীতিতে দৈনন্দিন প্রয়োজনের খাতিরে ছোটখাটো আপস করতে হলেও, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) এবং বিজেপির আদর্শের সঙ্গে দল যে অতীতেও কোনো আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না, সেকথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন ইউপিএ চেয়ারপার্সন। আগামী ১০ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অফ লাভ’ প্রকাশিত হতে চলেছে, যার ঠিক আগে এই রাজনৈতিক মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়েছে।