‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ নিয়ে তুলকালাম! অভিষেকের রক্ষাকবচ বাতিলের দাবিতে এবার শীর্ষ আদালতের দরজায় রাজ্য সরকার

তৃণমূলের ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় একসঙ্গে সুরক্ষাকবচ বা ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ দেওয়ার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো রাজ্য সরকার। আদালতের নির্দেশকে হাতিয়ার করে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বেশ কিছু মামলায় অভিষেককে রেয়াত দেওয়া হলেও, রাজ্যের এই পদক্ষেপে আইনি লড়াই এক নতুন মোড় নিয়েছে। দীপাবলির ছুটির পরেই শীর্ষ আদালতে এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

চলতি বছরের গত ৭ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য একটি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলায় কোনো ধরনের কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। বিষ্ণুপুর থানার দুটি এবং রবীন্দ্রনগর থানার একটি এফআইআরে তৃণমূল সাংসদকে এই সাময়িক রক্ষাকবচ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদালত এও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, ভবিষ্যতে যদি অভিষেকের বিরুদ্ধে ফের কোনো অযৌক্তিক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এফআইআর দায়ের হয়, তবে আদালত তাঁর সুরক্ষাকে আরও দীর্ঘায়িত বা সামগ্রিক রূপ দিতে বাধ্য হবে। তবে সুরক্ষাকবচ পেলেও আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, তদন্তের স্বার্থে অভিষেককে সবরকমভাবে পুলিশি তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। আগামী ২৩ নভেম্বর কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

কিন্তু হাইকোর্টের ঠিক এই নির্দেশকে ঘিরেই আপত্তি জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মামলার মূল শুনানির নির্ধারিত দিনের প্রায় ২৩ দিন আগেই, গত শুক্রবার রাজ্যের পক্ষ থেকে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়েছে। রাজ্যের মূল প্রশ্ন হলো, একাধিক আলাদা আলাদা এফআইআর বা মামলায় কীভাবে একযোগে এবং এক সুতোয় এমন ব্যাপক সুরক্ষা বা ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন দেওয়া সম্ভব? এই ধরনের আইনি সুরক্ষা তদন্তের নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত করতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

উল্লেখ্য, এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছিল যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, রাজ্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। তৃণমূল সাংসদের মূল অভিযোগ ছিল, পুলিশ কোনো প্রাথমিক অনুসন্ধান বা সত্যতা যাচাই না করেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ইন্ধনে তড়িঘড়ি এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে। এমনকী চার, পাঁচ বা ছয় বছর আগের পুরনো কোনো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনেও বর্তমানে মিথ্যে মামলা সাজানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট আগামী দিনে কী রায় দেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজনৈতিক মহল।