কালীপুজোর আগেই বেআইনি বাজির পাহাড়! সুপ্রিম নির্দেশ উড়িয়ে হুগলিতে রমরমিয়ে বিক্রি? আদালতের হুঁশিয়ারি

কালীপুজো ও দীপাবলির আনন্দ উদযাপনের মাঝেই হুগলি জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে নিষিদ্ধ ও বেআইনি শব্দবাজির বেলাগাম কেনাবেচা। আইনকানুন ও সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশিকাকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মুদির দোকান থেকে শুরু করে রাস্তার ধারের অস্থায়ী স্টলে রমরমিয়ে বিকোচ্ছে নিষিদ্ধ আতসবাজি। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের চরম নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ‘বাজি ও ডিজে বিরোধী মঞ্চ’। বৃহস্পতিবার জেলার একাধিক এলাকায় শব্দবাজির ক্ষতিকারক দিকগুলো তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে নামেন সংগঠনের কর্মকর্তারা।

মঞ্চের সদস্যরা জানান, হুগলির রিষড়া, শ্রীরামপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় অস্থায়ী ও পাড়ার স্টেশনারি দোকানেও আইনের তোয়াক্কা না করে বাজির পসরা সাজানো হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি সুরজিৎ সেনের অভিযোগ, বেআইনি বাজি বিক্রেতাদের একপ্রকার ‘অলিখিত ছাড়’ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে সর্বত্রই নিষিদ্ধ বাজির দাপট দেখা যাচ্ছে।

আইনজীবী তথা সংগঠনের সহ-সম্পাদক শুভ্রকান্তি সামন্ত স্পষ্ট জানান, শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে সরকার অনুমোদিত নির্দিষ্ট বাজি বাজার ছাড়া অন্য কোথাও বাজি বিক্রি করা যাবে না। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তারা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। অন্যদিকে, সংগঠনের অপর কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার পাঁজা সরকারি নীতির সমালোচনা করে বলেন, বাজির কিউআর (QR) কোড তুলে দিয়ে সরকার কেবল ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ করে দায় সেরেছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, পুলিশ, দমকল এবং পরিবেশ কর্মীদের নিয়ে সারা বছর নজরদারির জন্য একটি ‘যৌথ সমন্বয় কমিটি’ গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা।