‘শুধু ভাতা দিয়ে মানুষকে অলস বানিয়ো না!’ রাজ্য সরকারের নতুন শিল্পনীতি নিয়ে বোমা ফাটালেন মদন মিত্র

পশ্চিমবঙ্গের নতুন শিল্পনীতি নিয়ে এবার সম্পূর্ণ বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল ফেলে দিলেন ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা বিধায়ক মদন মিত্র। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে নতুন বিনিয়োগ প্রচার নীতি ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই নতুন নীতিকে ইতিবাচক ও যুক্তিসঙ্গত বলে অভিহিত করলেও, বর্তমান কর্মসংস্থানের বেহাল দশা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
মদন মিত্র সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু আর্থিক ভাতা বা অনুদান দিয়ে জনগণকে চিরকাল টিকিয়ে রাখা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। তাঁর মতে, সরকারি টাকা বিনামূল্যে মানুষের হাতে তুলে দিলে তাদের মধ্যে এক ধরনের অলসতা বা বদভ্যাস গড়ে ওঠে, যা ধীরে ধীরে তাদের প্রকৃত কাজ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়।
এদিন রাজ্য থেকে চলে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্রায় এক কোটি মানুষ কাজ না পেয়ে অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের রাজ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন তুলে মদন মিত্র বলেন, ভিনরাজ্য থেকে তাঁরা ফিরে এসে করবেনটা কী, যদি স্থানীয় স্তরে কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ বা পরিকাঠামোই তৈরি না থাকে? তাঁর মতে, কেবল মুখের কথায় শিল্প আটকে থাকলে চলবে না। আগামী পাঁচ বছর পর আবার যখন ভোট আসবে, তখন যদি কাজের জায়গায় শূন্যতাই বজায় থাকে, তবে এই শিল্পনীতির কোনো বাস্তব অর্থই খুঁজে পাওয়া যাবে না। বর্তমানে রাজ্যে শিল্প বলতে কার্যত কিছুই নেই, রয়েছে শুধু সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরতা—এমনটাই আক্ষেপ করতে শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়।
তবে এই মন্তব্য করার পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর এই অবস্থান কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট শিবিরের বিরুদ্ধে নয়। তাঁর কথায়, মানুষ হয়তো মনে করতে পারেন যে তিনি বিজেপির পক্ষে কথা বলছেন বা তাদের সমর্থন করছেন, কিন্তু তা একেবারেই নয়। দলীয় সীমানার ঊর্ধ্বে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্য সরকার বা বিজেপি-কংগ্রেস—যেকোনো পক্ষ থেকেই যদি কোনো ইতিবাচক ও কল্যাণকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তিনি দলমত নির্বিশেষে তাকে সর্বদাই সমর্থন জানাবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, মদন মিত্রের এই কড়া ও বাস্তবমুখী বার্তা রাজ্যের শাসক শিবিরকে অস্বস্তিতে ফেললেও তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে।