একরত্তি শিশু ও স্ত্রী-সহ শ্বশুরবাড়ির ৭ জনকে খুন! ১৫-২০ দিন ধরে রাজ্যের কোণায় কোণায় মৃতদেহ ফেলে দিল ক্যাবচালক?

কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু থেকে এক অত্যন্ত ভয়াবহ ও রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে। পারিবারিক কলহের জেরে নিজের স্ত্রী, শিশু সহ শ্বশুরবাড়ির মোট সাতজন সদস্যকে নির্মমভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল ৫২ বছর বয়সি এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, গত ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু করে টানা ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঠান্ডা মাথায় সেই মৃতদেহগুলি কর্ণাটকের বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ধৃত ওই ব্যক্তির নাম এস. ইন্দুশেখর, পেশায় যিনি একজন ক্যাব চালক। পাশাপাশি তিনি ‘তানা ভারাদারি’ (Taana Varadari) নামে একটি কন্নড়-ইংরেজি মাসিক ট্যাবলয়েড প্রকাশ করার পাশাপাশি একটি স্থানীয় ইউটিউব নিউজ চ্যানেলও চালাতেন। তাঁর স্ত্রী সুনীতার সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবন প্রায় দুই দশকের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজাজিনগরের ভাষ্যম সার্কেলের কাছে একটি বাড়ির ছাদে ইন্দুশেখরের ভাড়া নেওয়া এক কক্ষের ছোট ঘরেই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডগুলি সংঘটিত হয়েছে। এই পশুবৃত্তির অপরাধে ইন্দুশেখরের ১৭ বছর বয়সি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্ত্রী সুনীতার তাঁর নিজের মায়ের বাড়িতে ঘন ঘন যাতায়াত এবং তাঁর মা ও ভাইদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরেই প্রবল অশান্তি ও মতবিরোধ চলছিল। এই ক্ষোভের বসেই গত ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয় ধারাবাহিক এই খুন। অভিযুক্ত ইন্দুশেখর একে একে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে নিজের ঘরে ডেকে এনে শিল-নোড়া দিয়ে আঘাত করে খুন করে বলে অভিযোগ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্ত্রী সুনীতা, তাঁর মা রূপাবতী, ভাই শিবকুমার ও শঙ্কর, তাঁদের স্ত্রী দিব্যা ও নলিনী এবং শিবকুমারের সাত বছরের শিশু ছেলেও।
গত বৃহস্পতিবার নলিনীর মায়ের দায়ের করা একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগের সূত্র ধরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। শ্রীরামপুরা থানায় দায়ের হওয়া ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ ক্যাবচালক ইন্দুশেখরের ওপর নজরদারি শুরু করে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করে। গত বৃহস্পতিবারই চিক্কাবল্লাপুর জেলার নন্দী হিলসের কাছ থেকে পুনীতের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, বাকি ছয়টি মৃতদেহের এখনও খোঁজ চলছে।
বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার সীমন্ত কুমার সিং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি জেরায় অপরাধ স্বীকার করে জানিয়েছে যে সে একে একে তাদের ডেকে এনে খুন করে এবং মৃতদেহগুলি গাড়ি করে সরিয়ে ফেলে। বর্তমানে তার দেওয়া তথ্য ও বয়ান মিলিয়ে দেখে বাকি মরদেহ উদ্ধারের জন্য তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এদিকে, কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও বিকৃত মানসিকতার পরিচায়ক বলে তীব্র নিন্দা করেছেন। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।